ইয়েমেনে ইসরায়েলের সমন্বিত বিমান হামলা: লোহিত সাগরে উত্তেজনার আগুন

🟩 হুদাইদা শহর, আস-সালিফ বন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে একযোগে হামলা
🟩 পাল্টা প্রতিরোধের দাবি হুতিদের, বিমান প্রতিরক্ষা সক্রিয় ছিল
🟩 ইরান থেকে অস্ত্র সরবরাহের ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করার দাবি ইসরায়েলের
🟩 লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজেও হামলা, নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা জবাব
ইসরায়েল পশ্চিম ইয়েমেনের হুতি-নিয়ন্ত্রিত লোহিত সাগর উপকূলে একাধিক কৌশলগত স্থাপনায় সমন্বিত বিমান হামলা চালিয়েছে। শনিবার (৬ জুলাই) হুদাইদা প্রদেশে চালানো এসব হামলায় ব্যবহার করা হয় যুদ্ধবিমান।
হুতি-সমর্থিত চ্যানেল আল-মাসিরাহ জানিয়েছে, হুদাইদা শহর ছাড়াও রাস ইসা, আস-সালিফ বন্দর ও রাস কাতিব বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হয়। এসব স্থাপনা লোহিত সাগরের বাণিজ্য ও সামরিক ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে উল্লেখ করা হয়।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, হামলার সময় তারা দেশীয় প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ইসরায়েলি বিমান প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিরোধের মুখে কয়েকটি ইসরায়েলি বিমান পিছু হটতে বাধ্য হয়। তবে এই দাবিগুলোর স্বতন্ত্র যাচাই সম্ভব হয়নি।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র অ্যাভিচাই আদ্রেই এক্স-এ এক বার্তায় জানান, “এসব স্থাপনা ইরান থেকে অস্ত্র সরবরাহ এবং হুতিদের মাধ্যমে লোহিত সাগরে হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল”। তিনি আরও দাবি করেন, ‘গ্যালাক্সি লিডার’ নামক একটি বাণিজ্যিক জাহাজেও হামলা চালানো হয়, যা পূর্বে হুতিদের হাতে দখলে যায়।
আরও পড়ুন… মরদেহ আনতে গিয়ে মৃত্যু; এক পরিবারের তিন ভাই একসঙ্গে শায়িত
অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, রোববার লোহিত সাগরে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ হুতিদের সশস্ত্র নৌকার হামলার শিকার হয়। আরপিজি ও আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে চালানো এই হামলা নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিরোধে ব্যর্থ হয় এবং হামলাকারীরা পিছু হটে। তবে এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা সতর্ক করেছে, এ ধরনের হামলা সমুদ্রপথে নিরাপত্তা বিঘ্ন, বন্দর অবকাঠামোতে ক্ষয়ক্ষতি এবং যুদ্ধাপরাধের ঝুঁকি সৃষ্টি করে পুরো অঞ্চলকে নতুন সংকটের মুখে ফেলতে পারে।

