গোসলের পর নামাজের জন্য আলাদা অজু প্রয়োজন নেই: যা আছে কোরআন ও হাদিসে

ইসলামে দৈহিক পবিত্রতা রক্ষা করা ইমানের অঙ্গ। পবিত্রতা অর্জনের অন্যতম দুইটি মাধ্যম হলো অজু ও গোসল। নামাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত আদায়ের পূর্বে পবিত্রতা থাকা ফরজ, তবে অনেকেই প্রশ্ন করেন—গোসলের পর কি আবার নতুন করে অজু করতে হবে?
ইসলামic শরিয়তের আলোকে উত্তর হলো—যদি কেউ ফরজ ও সুন্নত মোতাবেক সম্পূর্ণভাবে গোসল করে থাকেন, তবে নামাজের জন্য আলাদা করে অজু করার প্রয়োজন নেই।
এ বিষয়ে সাহিহ হাদিসেও স্পষ্ট দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। হজরত আয়শা (রা.) বর্ণনা করেছেন, “আল্লাহর রাসুল (সা.) গোসলের পর নতুন করে অজু করতেন না।” (সুনানে নাসায়ি)
একইসঙ্গে, তিরমিজি ও নাসায়িতে আরও বর্ণনা এসেছে, যেখানে বলা হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) গোসলের আগে অজু করতেন, তবে গোসল শেষে পুনরায় অজু করার প্রয়োজন মনে করতেন না।
ধর্মীয় ব্যাখ্যায় বলা হয়, যেহেতু গোসলের ফরজ তিনটি—কুলি করা, নাকে পানি দেওয়া, এবং সমস্ত শরীর ধৌত করা—এই তিনটি কার্যক্রমের মাধ্যমে অজুর ফরজ চারটির মধ্যেও অন্ততপক্ষে মুখ, হাত, মাথা ও পা ধোয়ার অংশ সম্পূর্ণ হয়ে যায়।
আরও পড়ুন… ২০ ভাষায় হবে আরাফার খুতবা: “বাংলা ভাষায় হজের খুতবা অনুবাদে থাকছেন যাঁরা”
মাসেহ অর্থাৎ ভেজা হাত দিয়ে মাথায় হাত বুলানো বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও ইসলামিক পণ্ডিত মুফতি ইউসুফ (রহ.) ব্যাখ্যা করেছেন, গোসলের সময় মাথা ধোয়ার ফলে মাসেহের ফরজ স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আদায় হয়ে যায়।
হানাফি মাজহাবের আলোকে বিখ্যাত ফিকহ গ্রন্থ ফতোয়ায়ে আলমগিরি–তে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, “গোসলই অজুর জন্য যথেষ্ট।” যদিও গোসলের আগে অজু করাকে সুন্নত হিসেবে গণ্য করা হয়, তবে তা না করলে কোনো গোনাহ নেই।
এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ আলেমরা মত দিয়েছেন, কেউ যদি ইচ্ছা করে গোসলের পর আলাদাভাবে অজু করে, তবে তা মুস্তাহাব হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এতে অতিরিক্ত সাওয়াব পাওয়া যেতে পারে।