শেখ হাসিনার পদত্যাগে শেখ রেহানার ভূমিকার দাবি, আদালতে হাজিরার নির্দেশ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের পেছনে তার ছোট বোন শেখ রেহানার ব্যক্তিগত অনুরোধের ভূমিকা ছিল—এমন দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি তাজুল ইসলাম। রোববার (২৫ মে) ট্রাইব্যুনালে এক লিখিত তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে তিনি এই তথ্য জানান।
তাজুল ইসলাম দাবি করেন, ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট গণভবনে গিয়ে শেখ রেহানা শেখ হাসিনার পদত্যাগের জন্য পা ধরেন। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “শেষ সময় পর্যন্ত ক্ষমতা ধরে রাখতে চেয়েছিলেন শেখ হাসিনা। ৪ আগস্ট সকালে নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপর চাপ প্রয়োগ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।”
আরো পড়ুন…শেখ হাসিনা দিল্লি তেই আছেন মেয়ে পুতুলের কাছে জয়
তবে পরিস্থিতি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যাওয়ার পর পরিবারের বোঝানোর ফলে তিনি পদত্যাগে সম্মত হন এবং শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে গোপনে দেশ ত্যাগ করেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে একই দিনে আদালত অবমাননার মামলায় শেখ হাসিনা এবং ছাত্রলীগের সাবেক নেতা শাকিল আলম বুলবুলকে হাজির হতে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের তিন সদস্যের বেঞ্চের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদার এ আদেশ দেন।
৩০ এপ্রিল, জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মামলার বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করায় শেখ হাসিনা ও শাকিলের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়। ১৫ মে’র মধ্যে তাদের লিখিত জবাব দিতে বলা হলেও, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ জবাব দেননি।
আরো পড়ুন…শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর সারাদেশে যা যা হলো
২৫ মে তারা ট্রাইব্যুনালে হাজির হননি, বিষয়টি আদালতকে অবহিত করেন প্রধান কৌঁসুলি। তিনি বলেন, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে তাদের আবারো হাজির হতে বলা হোক এবং বিজ্ঞপ্তিতে যেন সাত দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়।
আদালত সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে রেজিস্ট্রারকে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে এবং পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী ৩ জুন দিন ধার্য করেছে।

