শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর সারাদেশে যা যা হলো

সারাদেশে যা যা ঘটলো
সোমবার রাতে ঢাকা ছিল উদ্বেগ এবং অনিশ্চয়তায় ঢাকা। কিছু এলাকায় পরিস্থিতি হয়ে উঠেছিল যুদ্ধক্ষেত্রের মতো। থানাগুলোর আশেপাশেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেই রাতে যারা বাইরে বের হয়েছিলেন, তাদের দাবি ছিল যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি তাদের প্রত্যাশার সাথে মিলেনি।
রাতভর গোলাগুলির ফলে রাজধানীর বাড্ডা এলাকা রূপ নেয় যুদ্ধক্ষেত্রে। সেখানকার চারপাশে থেকে যায় ধ্বংসাবশেষ ও ক্ষতচিহ্ন। রাতে তিনটার দিকে উত্তেজনা কমলে, থানা থেকে আটকে থাকা পুলিশ সদস্যদের রাজারবাগ পুলিশ লাইনে সরিয়ে নেওয়া হয়। ভোরবেলায় নিরব রাস্তা দিয়ে সেনাবাহিনীর যান চলাচল দেখা যায়।
সীমিত সময়ের মধ্যে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের আলোচনা শুরু হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, দ্রুত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা প্রয়োজন, যাতে দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার দুপুর তিনটার দিকে পলক তাঁর ব্যক্তিগত দুই কর্মকর্তাকে নিয়ে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান। তবে, তাঁকে বিমানে উঠতে দেওয়া হয়নি এবং ইমিগ্রেশনে আটকে রাখা হয়। সূত্রটি আরও জানায়, পলকের দুই ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নেপাল যেতে চেয়েছিলেন, তাদেরও ফেরত পাঠানো হয়।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্তি পেয়েছেন। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে হওয়া সহিংসতার মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ দলের গ্রেপ্তার হওয়া কেন্দ্রীয় নেতারা জামিন পেয়েছেন। অন্য দলের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, এবং গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হকও জামিন পেয়েছেন।
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘাতের কারণে ১১ আগস্ট থেকে নতুন সময়সূচিতে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু, তা আর বাস্তবায়িত হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশ ত্যাগের পর বিভিন্ন এলাকায় থানায় হামলা হওয়ায় প্রশ্নপত্র সংরক্ষণের ট্রাঙ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গতকাল সোমবার শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের পর সারা দেশে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীসহ, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী, থানা ও পুলিশের ওপর হামলা চলেছে। বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালসহ বিভিন্ন স্থাপনা ও ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরসহ রাজধানী ঢাকার ১৩টি ও ঢাকার বাইরে ৭টি থানায় হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া সাতক্ষীরা ও শেরপুর জেলা কারাগারে হামলা হয়েছে। গণমাধ্যম কার্যালয়েও ভাঙচুর হয়েছে।
পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন সবাইকে স্বৈরাচার উৎখাতের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছে। মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস রিলিজে এই তথ্য জানানো হয়। অ্যাসোসিয়েশন জানায়, ‘আমরাও চাকরি জীবনে বৈষম্যের শিকার হয়েছি। দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ বিতাড়িত হয়েছে। তাই আজ কথা বলার সুযোগ পেয়ে আবারও সকল ছাত্র জনতাকে বাংলাদেশ পুলিশের অধস্তন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে রক্তিম শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’ পদ্মা টিভি
নিজস্ব প্রতিবেদক

