ছেলেকে জিম্মি করে মাকে ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ১

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে এক প্রবাসীর বাড়িতে ঢুকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে জিম্মি করার পর তার মাকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় বাড়িতে ভাঙচুর, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী নারী।
শুধু তাই নয়, ঘটনার ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আরও দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাজীব (২৩) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। পলাতক রয়েছেন আরও চারজন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গফরগাঁও সার্কেল) মনতোষ বিশ্বাস।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার একটি এলাকায় ওই প্রবাসীর বাড়িতে যান শরীফ মিয়া (২৩), আরিফ মিয়া (২১)সহ পাঁচ যুবক। তারা প্রথমে পানি চান। এ সময় নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী পানি দিতে দরজার কাছে এলে তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয় বলে অভিযোগ।
এরপর অভিযুক্তরা ঘরে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালান। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বাড়ি নির্মাণের জন্য আলমারিতে রাখা প্রায় পাঁচ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায় তারা।
একপর্যায়ে ওই নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তার দাবি, ঘটনার সময় রাজীব মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তিন দিনের মধ্যে আরও দুই লাখ টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়।
এদিকে, ওই বাড়ি থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন এবং পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই অভিযান শুরু করে। পরে রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে একটি নির্জন জায়গায় অভিযান চালিয়ে রাজীবকে আটক করা হয়। তবে এ সময় বাকি চারজন পালিয়ে যান।
পুলিশের ভাষ্য, আটকের সময় ভিডিও ধারণে ব্যবহৃত মুঠোফোনটি রাজীব পানিতে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ সেটি উদ্ধার করে।
ভুক্তভোগী নারীর দেবরের ভাষ্য, বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর তার ভাবি নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে ওই বাড়িতে একাই থাকতেন। দুর্বৃত্তরা প্রথমে তার ভাতিজাকে জিম্মি করে এবং পরে ভাবির ওপর নির্যাতন চালায়। এ ঘটনায় শুক্রবার বিকেলে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনতোষ বিশ্বাস জানান, ওই নারী পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। তার অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের মধ্যে দুজন ধর্ষণে জড়িত ছিলেন এবং অন্যরা বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন। একই সঙ্গে ছেলেকে জিম্মি করা, বাড়িতে ভাঙচুর ও টাকা-পয়সা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
তিনি আরও জানান, একজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত চলছে। মেডিকেল রিপোর্টসহ অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে ঘটনার প্রকৃত চিত্র নিশ্চিত করা হবে। ভিডিও ধারণের অভিযোগটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং পলাতক অন্যদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

