নৃশংস হত্যার ১৯ দিন পরই আদালতের রায়, আলোচনায় রামিসা মামলা

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেওয়া এই মামলার বিচার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন হওয়ায় ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মধ্যেই রায় দেওয়া হলো।
রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু।
মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হয়। গত ১ জুন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয় এবং পরদিন সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করা হয়। মোট পাঁচটি শুনানির মাধ্যমে বিচারকার্য সমাপ্ত হয়।
রায় ঘোষণার দিন সকালে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। একই মামলার অপর আসামি ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার পূর্ব পর্যন্ত তারা আদালতের হাজতখানায় ছিলেন।
গত ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে আদালত ৭ জুন রায়ের দিন নির্ধারণ করেন। বিচার কার্যক্রম মাত্র চার কার্যদিবসের মধ্যেই সম্পন্ন হয়।
রায়কে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। পরে তার পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাটে সন্দেহজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর দেওয়া হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্না আক্তারকে হেফাজতে নেয়। পরে প্রযুক্তিগত সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরদিন, ২০ মে, নিহত শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় এবং বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

