ভয়ের ছায়ায় ইসরাইল—নিরাপত্তাহীনতায় দেশ ছাড়ছেন হাজারো নাগরিক

ভয়ের ছায়ায় ইসরাইল—নিরাপত্তাহীনতায় দেশ ছাড়ছেন হাজারো নাগরিক
নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি নিয়ে গড়ে ওঠা ইসরাইল আজ গভীর অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মুখোমুখি। চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দেশটির নাগরিকদের মধ্যে ভীতি ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় অনেকেই দেশ ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বেরিয়ে পড়ছেন।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও ইসরাইলি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপগামী ইসরাইলিদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে মিসরের সীমান্তবর্তী শহর তাবা এখন দেশত্যাগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর পর থেকেই ইসরাইল ছাড়ার প্রবণতা দ্রুত বাড়তে থাকে। যদিও ঠিক কতজন দেশ ছেড়েছেন তার নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই, তবে সীমান্ত এলাকায় কর্মরত সূত্রগুলো বলছে—প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ তাবা হয়ে মিসরে প্রবেশ করছেন।
বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশ ছাড়ার চাহিদা এতটাই বেড়েছে যে অধিকাংশ ফ্লাইটই পূর্ণ থাকছে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১৫টি ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে এই রুটে। অনেকেই তাবা পার হয়ে মিসরের সিনাই অঞ্চলেও অস্থায়ী আশ্রয় নিচ্ছেন।
তবে এই পালিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় বাড়তি খরচ নিয়ে অসন্তোষও দেখা দিয়েছে। সীমান্ত পারাপারের ফি দ্বিগুণ হয়ে গেছে, পাশাপাশি যানবাহন পরিবহন খরচও কয়েকগুণ বেড়েছে। দক্ষিণ সিনাইয়ের হোটেলগুলোতেও ইসরাইলি নাগরিকদের কাছ থেকে তুলনামূলক বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
দেশের অভ্যন্তরেও নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ চলছে। তুলনামূলক শান্ত দক্ষিণাঞ্চলের মরুভূমির শহর মিৎসপে রামন এখন অনেকের জন্য আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে। প্রায় ছয় হাজার জনসংখ্যার এই শহরে অতিরিক্ত কয়েক হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দেশত্যাগের প্রবণতা নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে মিলিয়ে প্রায় এক লাখ মানুষ ইসরাইল ছেড়েছেন। প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৫০ হাজার নাগরিক দেশত্যাগ করছেন।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো—দেশ ছাড়ছেন উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ পেশাজীবীরা। চিকিৎসক, প্রকৌশলী, গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি। বিশেষ করে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের দেশত্যাগ স্বাস্থ্যখাতের জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে ইসরাইলের অর্থনীতি ও মানবসম্পদ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে।
নিজস্ব প্রতিবেদক

