ইরানের অবস্থান স্পষ্ট: যুদ্ধবিরতি নয়, চায় স্থায়ী সমাপ্তি ও ক্ষতিপূরণ

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তারা সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে আগ্রহী নন; বরং চলমান সংঘাতের সম্পূর্ণ অবসান চান। তার মতে, যেকোনও সমাধানে ভবিষ্যতে হামলা বন্ধের নিশ্চয়তা থাকতে হবে এবং সংঘর্ষে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। এ তথ্য প্রকাশ করেছে আনাদোলু এজেন্সি।
আরাগচি বলেন, ইরান একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধান চায়, যেখানে পুরো অঞ্চলে শান্তি ফিরে আসবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কেবল অস্থায়ী বিরতি নয়, বরং যুদ্ধের মূল সমস্যার সমাধানই তাদের লক্ষ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে জানান, বর্তমানে কোনও আনুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে না। বরং সরাসরি বা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সীমিত পরিসরে বার্তা আদান-প্রদান হচ্ছে।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, অতীতের মতো এখনও তিনি মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফের কাছ থেকে বার্তা পাচ্ছেন। তবে এসব যোগাযোগকে তিনি আলোচনা হিসেবে বিবেচনা করেন না।
আরো পড়ুন…আমিরাতে ড্রোন ভূপাতিত, ধ্বংসাবশেষে প্রাণ গেল বাংলাদেশির
তিনি আরও জানান, এই বার্তাগুলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পৌঁছানো হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যেও যোগাযোগ থাকে। তবে দেশের ভেতরে কোনও নির্দিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলাদা করে আলোচনা হচ্ছে না।
আরাগচি উল্লেখ করেন, এই পুরো যোগাযোগ প্রক্রিয়া ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। এখানে উভয় পক্ষ নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের কথিত ১৫ দফা প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনও প্রস্তাবে তেহরান এখনো সাড়া দেয়নি এবং তাদের পক্ষ থেকেও কোনও শর্ত দেওয়া হয়নি। আলোচনায় যাওয়ার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, চাপ প্রয়োগ বা হুমকি দিয়ে ইরানকে প্রভাবিত করা সম্ভব নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে সম্মানজনকভাবে কথা বলার আহ্বান জানান।
সমুদ্র নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি এখনো উন্মুক্ত রয়েছে। তবে যেসব দেশ ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, তাদের জন্য এই রুট সীমিত করা হতে পারে। পাশাপাশি মিত্র দেশগুলোর জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

