২৩ শট ঠেকিয়ে ইতিহাসের দুয়ারে ইরান, নায়ক বেইরানভান্দ

বিশ্বকাপের ‘জি’ গ্রুপে শক্তিশালী বেলজিয়ামের বিপক্ষে অসাধারণ রক্ষণাত্মক নৈপুণ্য দেখিয়ে মূল্যবান এক পয়েন্ট অর্জন করেছে ইরান। ক্যালিফোর্নিয়ার সোফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হলেও পুরো ম্যাচের নায়ক ছিলেন ইরানের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দ।
ম্যাচের শুরুতেই বেলজিয়ামের স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকুর সঙ্গে সংঘর্ষে বুকে আঘাত পান বেইরানভান্দ। কয়েক মিনিট চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি মাঠে ফিরে আসেন এবং এরপর একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে বেলজিয়ামের আক্রমণভাগকে হতাশ করেন।
পুরো ম্যাচে বলের দখল এবং আক্রমণে স্পষ্ট আধিপত্য ছিল বেলজিয়ামের। তারা মোট ২৩টি শট নেয়, যার মধ্যে ৭টি ছিল লক্ষ্যে। তবে বেইরানভান্দের অসাধারণ দক্ষতায় একটিও জালে জড়াতে পারেনি। বিশেষ করে মাক্সিম ডি কাইপারের একাধিক শক্তিশালী প্রচেষ্টা প্রতিহত করে তিনি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। পাশাপাশি নিখুঁত লং বল ও আত্মবিশ্বাসী হাই ক্লেইমের মাধ্যমে রক্ষণভাগকে স্থিতিশীল রাখেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।
অন্যদিকে, বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়াও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে বিপদমুক্ত রাখেন। প্রথমার্ধে মেহদি তারেমির একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হলে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হারায় ইরান।
ম্যাচের ৬৬ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় বেলজিয়াম। শেষ ডিফেন্ডার হিসেবে ভুল করার পর ইরানের ফরোয়ার্ড মেহদি তারেমিকে ফাউল করায় নাতাঁ উঙ্গয় সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। এরপর প্রায় আধাঘণ্টা ১০ জন নিয়ে খেললেও কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি।
এই ড্রয়ের ফলে দুই ম্যাচ শেষে ২ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে ‘জি’ গ্রুপের শীর্ষে রয়েছে ইরান। সমান পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে বেলজিয়াম। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড ও মিসরের সংগ্রহ এক ম্যাচে ১ পয়েন্ট করে।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ইরান মুখোমুখি হবে মিসরের, আর বেলজিয়াম খেলবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। সেই ম্যাচের ফলের ওপর নির্ভর করবে নকআউট পর্বে ওঠার ভাগ্য। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউটে জায়গা করে নেওয়ার স্বপ্ন এখন অনেকটাই বাস্তব হয়ে উঠেছে ইরানের সামনে।

