ভারতীয় সীমান্তে মৃত্যু, ৩ মাস পর দেশে ফিরল ওয়াসিমের মরদেহ

🟩 পলিয়ানপুর সীমান্তে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে হস্তান্তর
🟩 ইসামতি নদীতে পড়ে ছিল ওয়াসিম আকরামের মরদেহ
🟩 দুই দেশের দীর্ঘ চিঠি চালাচালির পর মরদেহ ফেরত
🟩 পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তের ওপারে মারা যাওয়া বাংলাদেশি যুবক ওয়াসিম আকরামের মরদেহ ৩ মাস পর ফেরত দিয়েছে ভারতীয় পুলিশ। শনিবার (৫ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে পলিয়ানপুর সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফ-এর মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মরদেহটি হস্তান্তর করা হয়।
ওয়াসিম আকরাম গত ১১ এপ্রিল রাতে সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। ফেরার পথে তিনি বিএসএফের হাতে ধরা পড়েন, যদিও তার সঙ্গে থাকা অন্যরা পালিয়ে আসে। পরদিন সকালে ভারতের ইসামতি নদীতে ওয়াসিমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী, পরে বিএসএফের উপস্থিতিতে ভারতীয় পুলিশ তা উদ্ধার করে।
মহেশপুর উপজেলার বাগাডাঙ্গ গ্রামের বাসিন্দা ওয়াসিমের মরদেহ ফেরত পাওয়ার জন্য পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছিলেন। অবশেষে শনিবার ভারতীয় পুলিশের কাছ থেকে মরদেহ গ্রহণ করে বাংলাদেশ পুলিশ, এবং পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শামসুল আলম মৃধা ও ইউপি সদস্য ওবায়দুল ইসলামের উপস্থিতিতে তা ওয়াসিমের বাবা ও ভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মহেশপুর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, “ওয়াসিমের মরদেহ যথাযথ প্রক্রিয়ায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
দীর্ঘ চেষ্টার পর ফেরত মিলল মরদেহ
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী—
-
১১ এপ্রিল রাতে সীমান্ত পার হন ওয়াসিম
-
১২ এপ্রিল সকালে ভারতের ইসামতি নদীতে তার মরদেহ পাওয়া যায়
-
বিএসএফের উপস্থিতিতে ভারতীয় পুলিশ তা উদ্ধার করে
-
এরপর বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে চিঠি চালাচালি চলে
-
অবশেষে ৫ জুলাই পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়
আরও পড়ুন… মা-ছেলে-মেয়েকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ২
স্থানীয় চেয়ারম্যান শামসুল আলম মৃধা বলেন, “বহু চেষ্টার পর তিন মাস পর আমরা মরদেহ দেশে আনতে সক্ষম হয়েছি। পরিবারের লোকজন এখন অন্তত জানাজা ও দাফনের মাধ্যমে শেষ বিদায় জানাতে পারবে।”
এই ঘটনা সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ও মানবপাচারের ঝুঁকির বিষয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে, যা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে প্রশাসন ও সচেতন মহলে।

