মা-ছেলে-মেয়েকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ২

🟩 ৬৩ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা, ৩৮ জনের নাম সরাসরি এজাহারে
🟩 গ্রেপ্তার ২ আসামি সেনাবাহিনীর সহায়তায় আটক
🟩 চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যসহ প্রভাবশালীদের নামও তালিকায়
🟩 চুরি ও মাদকের অপবাদ তুলে একই পরিবারের তিনজনকে হত্যা করে উত্তেজিত জনতা
কুমিল্লার মুরাদনগরের কড়ইবাড়িতে মা, ছেলে ও মেয়েকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় অবশেষে হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। শুক্রবার (৪ জুলাই) রাতে নিহতদের পরিবারের সদস্য রিক্তা আক্তার বাদী হয়ে ৬৩ জনকে আসামি করে বাঙ্গরা বাজার থানায় মামলা করেন।
মামলার আসামিদের মধ্যে ৩৮ জনের নাম এজাহারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে রয়েছেন:
-
আকবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লাহ
-
ওয়ার্ড মেম্বার বাচ্চু মিয়া
-
বাছির মিয়া, বক্কর মেম্বার, রবিউল আওয়াল, শাহআলম ও আনু মেম্বার
-
নারীদের মধ্যে রয়েছেন—কারিশমা, পারুল, নার্গিস ও রহিমা বেগম
ঘটনার পরদিন শুক্রবার রাতেই সেনা সদস্যদের সহযোগিতায় এজাহারে থাকা ১৮ ও ১৯ নম্বর আসামি মো. সবির আহমেদ (৪৮) ও মো. নাজিমউদ্দীন বাবুল (৫৬) কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, জানিয়েছে বাঙ্গরা থানার ওসি মাহফুজুর রহমান। গ্রেপ্তারদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
কী ঘটেছিল সেই দিন?
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কড়ইবাড়ি গ্রামে একটি মোবাইল ফোন চুরি ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ তুলে উত্তেজিত জনতা তিনজনকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করে। নিহতরা হলেন:
-
রোকসানা আক্তার রুবি (৫৮) — স্ত্রী,
-
রাসেল মিয়া (৩৫) — ছেলে,
-
জোনাকি আক্তার (৩২) — মেয়ে।
আরও পড়ুন… ইফতারের আগমুহূর্তে সাপের কামড়ে বৃদ্ধার মৃত্যু, জামালপুরে শোকের ছায়া
তারা একই পরিবারের সদস্য ও খলিলুর রহমানের স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, নিহতদের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ও রামদা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে নিন্দার ঝড় ওঠে। এলাকাবাসীর অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়ার মধ্যে গ্রেপ্তার এবং মামলার ঘটনার মধ্য দিয়ে তদন্তের গতি পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এখন সবাই চায়—এ ঘটনায় যেন দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হয় এবং এর পুনরাবৃত্তি যেন আর না ঘটে।

