মিশরে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে ১৯ দিনমজুর নিহত, অধিকাংশই কিশোর

🟩 ভোরে কাজে যাওয়ার পথে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, নিহতদের বলা হচ্ছে ‘রুটির শহীদ’
🟩 মাত্র ৩ জন বেঁচে গেছেন, চিকিৎসা চলছে আশমুন হাসপাতালে
🟩 পরিবারপ্রতি ক্ষতিপূরণ ঘোষণা, তদন্তে নেমেছে প্রশাসন
🟩 বারবার দুর্ঘটনার শিকার সেই একই সড়ক, প্রশ্ন উঠেছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে
মিশরের মেনোফিয়া প্রদেশে একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন দিনমজুর, যাদের অধিকাংশই ছিল কিশোর-কিশোরী। শুক্রবার (২৮ জুন) ভোরে আশমুন শহরের আঞ্চলিক সড়কে একটি মাইক্রোবাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ প্রাণহানি ঘটে।
স্থানীয় গণমাধ্যম ও সরকারি সংবাদপত্র ‘আল-আহরাম’ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় নিহত অধিকাংশ শ্রমিক ‘প্রতিদিনের রুটি সংগ্রহে বের হওয়া শহীদ’ বলে আখ্যায়িত হয়েছেন।
ঘটনাক্রম ও প্রতিক্রিয়া:
-
মাইক্রোবাসটিতে দিনমজুরদের নিয়ে যাচ্ছিল কাফর আল-সানাবসা গ্রাম থেকে কাজের স্থানে
-
ভোরে বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকটি মাইক্রোবাসটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে মুহূর্তেই হতাহতের ঘটনা ঘটে
-
মাত্র তিনজন জীবিত উদ্ধার হয়েছেন, তারা এখন আশমুনের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
সরকারের অবস্থান ও ক্ষতিপূরণ:
-
শ্রমমন্ত্রী মোহাম্মদ গেবরান ঘোষণা দিয়েছেন, নিহতদের পরিবারকে প্রতি পরিবারে ২ লাখ মিশরীয় পাউন্ড (প্রায় ৪,০০০ ডলার) ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের ২০ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৪০০ ডলার) করে সহায়তা দেওয়া হবে
-
প্রদেশের গভর্নর ইব্রাহিম আবু লাইমন দুর্ঘটনার কারণ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত গতি দায়ী বলে ধারণা
আরও পড়ুন… ইসরায়েলি হামলায় নিহতদের জানাজায় জনতার ঢল, তেহরানে আবেগঘন দৃশ্য
শিশুশ্রম ও সড়ক নিরাপত্তার উদ্বেগ
সরকারি তথ্য বলছে, মিশরে প্রায় ১৩ লাখ শিশু শ্রমিক, যারা প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনে কর্মস্থলে যাতায়াত করে। ফলে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে।
“শুধু এপ্রিলেই এই সড়কে একইভাবে একটি পরিবারের ৫ জন প্রাণ হারায়,”
পটভূমি ও আরও দুর্ঘটনা
২০২৩ সালের অক্টোবরে কায়রো-আলেক্সান্দ্রিয়া সড়কে বাস ও গাড়ির সংঘর্ষে ৩৫ জন নিহত হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে অন্তত ১৮ জন আগুনে পুড়ে মারা যান।
এই দুর্ঘটনা আবারও মিশরের সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে, বিশেষ করে শিশুশ্রম ও ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত ব্যবস্থা নিয়ে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে এ নিয়ে আবারও আলোচনা জোরদার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র : আলজাজিরার

