বাংলাদেশ-চীন-পাকিস্তান মিলে জোট গঠনের গুঞ্জন ভিত্তিহীন: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন

🟩 চীন-পাকিস্তান-বাংলাদেশ বৈঠক ছিল অফিশিয়াল পর্যায়ের
🟩 জোট নয়, আলোচনা ছিল সংযুক্তি ও বাণিজ্য নিয়ে
🟩 ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না
🟩 যেকোনো দেশ চাইলে অংশ নিতে পারে, ভারত-নেপালের ক্ষেত্রেও উন্মুক্ত
বাংলাদেশ, চীন ও পাকিস্তান নিয়ে কোনো ত্রিপক্ষীয় জোট গঠনের পরিকল্পনা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, “আমরা কোনো জোট করছি না। এটি চীনের উদ্যোগে একটি অফিশিয়াল পর্যায়ের আলোচনা ছিল, রাজনৈতিক নয়।”
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই ব্যাখা দেন।
এর আগে ১৯ জুন চীনের কুনমিংয়ে তিন দেশের পররাষ্ট্র সচিবদের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যা ঘিরে জোট গঠনের গুঞ্জন তৈরি হয়।
তৌহিদ হোসেন বলেন,
“ওইদিন একটি প্রদর্শনীর সাইডলাইনে বসে তিন দেশের সচিবেরা আলোচনা করেন। আলোচনায় কানেকটিভিটি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ইত্যাদি বাস্তবধর্মী বিষয় ছিল। কোনো রাজনৈতিক বা জোট গঠনের প্রসঙ্গ আসেনি।”
তিনি আরও বলেন—
“আমাদের বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি যেভাবে বলা হয়েছে, সেটাই মূল। অন্য দেশগুলোর ব্যাখ্যা তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে—এটাই স্বাভাবিক।”
বৈঠকে ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ (JWG)’ গঠনের কথা চীন ও পাকিস্তান বললেও, বাংলাদেশের বিজ্ঞপ্তিতে তার উল্লেখ নেই।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন—
“আমরা কিছু অস্বীকার করছি না, তবে এটিকে বড় কোনো কাঠামোগত উদ্যোগ হিসেবে দেখা ঠিক নয়।”
আরও পড়ুন… ছাত্রদল সভাপতির মন্তব্যে ক্ষুব্ধ জবি শিবির সভাপতি, দিলেন কড়া জবাব
ত্রিপক্ষীয় এই উদ্যোগ তৃতীয় কোনো দেশকে লক্ষ্য করে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন,
“আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, এটা কোনো তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে নয়। বরং ভারত বা নেপালও চাইলে এমন বৈঠকে আমরা প্রস্তুত। বিষয়টি অর্থনৈতিক সুযোগ ও সংযুক্তি বৃদ্ধির।”
তিনি আরও মন্তব্য করেন—
“চীন ও পাকিস্তানের নাম থাকায় কিছুটা জল্পনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু অন্য কোনো তিন দেশের ক্ষেত্রে হয়তো এমন হতো না। তিন দেশ বসেছে, এটিই বাস্তবতা। এর বেশি কিছু নয়।”
পদ্মা টেলিভিশনের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, এই আলোচনা শুধুই কূটনৈতিক সৌজন্য ও বাস্তবধর্মী যোগাযোগ উন্নয়নের প্রক্রিয়ার অংশ—যা অতিরঞ্জিত রাজনৈতিক ব্যাখ্যার প্রয়োজন রাখে না।