চৌগাছা পশুরহাটে ৪ বছরে ১.৫ কোটি টাকার রাজস্ব লোপাটের অভিযোগ

-
বিগত চার বছরে প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা রাজস্ব লোপাটের তথ্য পাওয়া গেছে চৌগাছা পশুরহাট থেকে।
-
লোপাটের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে সাবেক মেয়র নূর উদ্দীন আলম মামুন হিমেল, স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রভাবশালী নেতারা।
-
পৌরসভা এখনও আদায় করেনি বকেয়া অর্থ, প্রশাসকরা মামলা মোকদ্দমায় জড়িত।
-
সাবেক মেয়রের লোকজন আবারও পশুরহাট দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছে।
বগুড়ার চৌগাছা পৌরসভার পশুরহাট থেকে গত চার বছরে প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখ ১২ হাজার ৯৫০ টাকার রাজস্ব লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে নাম ওঠেছে পৌরসভার সাবেক মেয়র নূর উদ্দীন আলম মামুন হিমেলসহ স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের।
সূত্রের দাবি, এই অর্থ লোপাটের পেছনে রয়েছে ইজারাদার আবিদুর রহমান, সাবেক মেয়র হিমেল এবং কিছু স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাদের যোগসাজশ। তারা একসঙ্গে মিলেমিশে হাট থেকে অর্জিত রাজস্বের বড় অংশ পকেটস্থ করেছেন। অভিযোগ ওঠেছে, তারা আবারও পশুরহাট দখল নেওয়ার পাঁয়তারা শুরু করেছে।
পৌরসভার হিসাব অনুযায়ী,
-
২০২১ সালে ইয়ামুল অর রশীদ টিটো ৫৬ লাখ ২৮ হাজার ৫০০ টাকায় হাট ইজারা নেন; কিন্তু পৌরসভাকে এখনও ২৬ লাখ ৪ হাজার ২০০ টাকা বকেয়া রয়েছে।
-
২০২২ সালে শামীম রেজা ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ইজারা নেন, বকেয়া রয়েছে ৫৫ লাখ ১২ হাজার টাকা।
-
২০২৩ সালে আসিফ ইকবাল ভুট্টো ৫৯ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ইজারা নেন; পৌরসভাকে এখনো ৩৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা পাওনা।
-
২০২৪ সালে মিজানুর রহমান ৮০ লাখ ১৫ হাজার টাকায় ইজারা নেন; বকেয়া ৯ লাখ ৫৮ হাজার ৭৫০ টাকা।
অর্থাৎ, গত চার বছরে মোট বকেয়া ও লোপাট মিলিয়ে পৌরসভাকে প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা থেকে বেশি রাজস্ব আদায় করতে পারেনি।
আরও পড়ুন… ৩ হাজার কোটি টাকার পাথর লুটে বেপরোয়া বিএনপি নেতাকর্মীরা
রাজস্ব লোপাট ও ক্ষমতার দখল নিয়ে উত্তেজনা
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সব পৌর মেয়র ও কাউন্সিলর অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়। প্রথমে সহকারী কমিশনার গুঞ্জন বিশ্বাস, পরে প্রকৌশলী তাসমিন জাহান চৌগাছা পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পান। নতুন প্রশাসক হিসেবে তাসমিন জাহান শুরু করেন পৌরসভার সাধারণ হাট ও পশুহাটের প্রকাশ্য টেন্ডার প্রক্রিয়া।
তবে এই উদ্যোগের মুখে সাবেক মেয়র হিমেলের সমর্থকরা আবারও পশুরহাটের দখল নিতে শুরু করে চাপ সৃষ্টি। ঝিনাইদহের আবিদুর রহমান, যিনি হাট ইজারাদার, বিএনপি নেতাদের সঙ্গে মিলে চাপ সৃষ্টি করছেন। এতে পশুরহাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ বেড়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
উচ্চ আদালতের পরবর্তী আদেশ না আসা পর্যন্ত পশুরহাটের রাজস্ব আদায় পৌরসভার তত্ত্বাবধানে চলবে।
রাজনৈতিক নেতাদের নামের অভিযোগ
চৌগাছার ঠিকাদার আতিকুর রহমান লেন্টু জানান, সাবেক মেয়র হিমেল, ইয়ামুল টিটো, শামীম রেজা, আসিফ ভুট্টো, মিজানুর রহমান ও পাতিবিলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান লাল একসঙ্গে মিলেমিশে বকেয়া রাজস্বের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তারা বিভিন্ন অজুহাতে রাজস্বের টাকা পকেটস্থ করেছেন।
তবে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা পাতিবিলা ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান লাল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি রাজস্ব লোপাট ও দখলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁকে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে।
পৌর প্রশাসকের অবস্থান
চৌগাছা পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসমিন জাহান বলেন,
“পশুরহাটের বিষয়টি আদালতে মামলা হিসেবে চলছে। আদালতের রায় অনুযায়ী হাটের পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।”
আরও পড়ুন… কেরানীগঞ্জে গভীর রাতে বিস্ফোরণ: দগ্ধ শিশু ও মা-বাবা, ঝুঁকিপূর্ণ পাঁচতলা ভবন
সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান
-
২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পশুরহাটের ইজারা ও বকেয়া রাজস্বের পরিমাণ প্রায় ১.৫ কোটি টাকার কাছাকাছি।
-
আদালতে মামলার কারণে রাজস্ব আদায় কার্যক্রম এখন স্থগিত।
-
পশুরহাট নিয়ন্ত্রণে পূর্বের ক্ষমতাশালীদের পুনরায় আগ্রহ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।