“সংস্কারের আহ্বান রাজনৈতিক নেতাদের, তথ্য আপা কর্মীদের আন্দোলনে একাত্মতা”

🟩 পুরোনো অভ্যাস ছাড়তে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি রাজনৈতিক নেতাদের আহ্বান
🟩 “তথ্য আপা একটি সফল প্রকল্প, একে ধ্বংস করা মানেই কর্মসংস্থান ধ্বংস”
🟩 “প্রধান উপদেষ্টাকে আগামী দুই দিনের মধ্যে আলোচনায় বসার আহ্বান”
তথ্য আপা কর্মীদের চলমান অবস্থান কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে চলমান অভ্যাস ত্যাগ করে সংস্কারের পথে এগিয়ে যেতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতা ও রাজনৈতিক অ্যাক্টিভিস্টরা।
সোমবার (১৬ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে তথ্য আপা প্রকল্পের কর্মীদের অবস্থানের ২০তম দিনে এই সংহতি জানান গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, এবং রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের অর্থনৈতিক সমন্বয়ক দিদারুল ভূইয়া।
“তথ্য আপা একটি সফল উদ্যোগ” — দিদারুল ভূইয়া
দিদারুল ভূইয়া বলেন,
“বিগত সরকারের অল্প কিছু প্রকল্পের মাঝে ‘তথ্য আপা’ ছিল সফল একটি উদাহরণ। প্রান্তিক পর্যায়ে তথ্যসেবা পৌঁছে দিতে এর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এখন এটিকে ধ্বংসের চেষ্টা করা হচ্ছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, “বর্তমান সরকার এখন পর্যন্ত কোনো নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারেনি। এই প্রকল্প বন্ধ করা মানে নতুন কর্মসংস্থানের পথ রুদ্ধ করা।”
তার ভাষায়, “আমরা সংস্কারমূলক সরকারের কাছে আশাবাদী ছিলাম, ধ্বংস নয়।”
আরও পড়ুন… “গণমাধ্যমের নীরবতায় হতাশা: ১৬ জুনের ইতিহাস উপেক্ষিত কেন?”
“সরকার শুনছে না” — মজিবুর রহমান মঞ্জু
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন,
“এখানে যারা অবস্থান করছেন, তাদের দাবি কেউ শুনছে না। আজ যদি ১০-২০ হাজার নারী যমুনা সেতু অবরোধ করে, বোতল ছুড়ে মারে, তাহলেই সরকার শুনবে?”
তিনি বলেন, “গাফিলতির কারণেই আজ রাজপথে অবস্থান করতে হচ্ছে। দুর্ঘটনা ঘটলে তখনই মায়াকান্না শুরু হবে। সরকারকে চাই গঠনমূলক রাজনীতি, গতানুগতিকতা নয়।”
তিনি আগামী দুই দিনের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টাকে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানান এবং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান।
“এই আচরণ আমাদের অনেক কিছু মনে করিয়ে দেয়” — জোনায়েদ সাকি
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন,
“আমরা সরকারের কঠোর সমালোচনা করতে চাই না, কিন্তু এ ধরনের আচরণ আমাদের হাসিনা সরকারের সময়কার চিত্র মনে করিয়ে দেয়।”
তিনি বলেন, “অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে সরকার এসেছে, তাদের উচিত মানুষের দাবি শোনা। সব দাবি মেনে নেওয়া সম্ভব না হলেও সংলাপের দরজা খোলা রাখা সরকারের দায়িত্ব।”
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, “আজ ও আগামীকাল মধ্যে তথ্য আপা কর্মীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসুন। মহিলা ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টার উচিত দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা।”
প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায় প্রসঙ্গে সাকি বলেন, “নতুন নিয়োগে যদি বাণিজ্যের গন্ধ থাকে, তাহলে বিদ্যমান কর্মীদের নিয়েই প্রকল্প সম্প্রসারিত করুন। তাতে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা দুই-ই বজায় থাকবে।”
আরও পড়ুন… “ভোটের জন্য মানুষ মুখিয়ে আছে”—মোস্তফা জামান
দীর্ঘ আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, গত ২৮ মে থেকে তথ্য আপা প্রকল্পের কর্মীরা প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি ঈদের ছুটিতেও তারা আন্দোলন চালিয়ে গেছেন।
তাদের প্রধান দুই দাবি হলো—
-
প্রকল্প শেষ হলে তাদের রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করা,
-
পূর্বের বেতন কর্তনের অর্থ ফেরত দেওয়া।