ফেসবুকে আবেগঘন বার্তা দিয়ে চরম পদক্ষেপ: সাবেক এমপি শিবলী সাদিকের স্ত্রীর জীবন-মৃত্যুর লড়াই

দিনাজপুরে এক আলোচিত ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক–এর স্ত্রী খাদিজা মল্লিক সীমু গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগপূর্ণ বার্তা দেওয়ার পর তিনি অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন করেন বলে জানা গেছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) রাত প্রায় ৮টার দিকে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং বর্তমানে দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনের আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসক মুসা আল আশারীর বরাতে জানা গেছে, তার শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় খাদিজা হাকিমপুরে তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। বিকেলের দিকে অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
এর আগে বিকাল ৫টা ৪৬ মিনিটে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে খাদিজা তার সাত বছরের দাম্পত্য জীবনের নানা কষ্ট ও মানসিক যন্ত্রণা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই তিনি বিভিন্ন ধরনের চাপ ও অবিচারের শিকার হচ্ছিলেন, যা দীর্ঘদিন ধরে তাকে ভেঙে দিয়েছে।
স্ট্যাটাসে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে সহ্য করার পর তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন এবং মানসিকভাবে আর শক্ত থাকতে পারছেন না। একই সঙ্গে নিজের এই চরম সিদ্ধান্তের জন্য তিনি স্বামীসহ কয়েকজনের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন।
খাদিজা অভিযোগ করেন, তার স্বামী আত্মকেন্দ্রিক আচরণ করতেন এবং ব্যক্তিগত জীবনে তাকে মানসিকভাবে কষ্ট দিয়েছেন। পাশাপাশি এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়েও তিনি অভিযোগ উত্থাপন করেন এবং বলেন, এসব কারণে তার দাম্পত্য জীবন ভেঙে পড়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, দীর্ঘদিনের চেষ্টা ও ত্যাগের মূল্যায়ন না পেয়ে তিনি চরমভাবে হতাশ হয়ে পড়েন। নিজের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্ট্যাটাসে।
শেষদিকে পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি লেখেন, তার এই সিদ্ধান্ত ভুল হলেও তিনি ন্যায্য বিচার পাবেন না—এই আশঙ্কা থেকেই তিনি এমন পথ বেছে নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে অনুরোধ করেন, যেন তার অভিযোগগুলোর যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা হয়।
প্রসঙ্গত, মৌসুমী আক্তার সালমা–র সঙ্গে শিবলী সাদিকের প্রথম বিয়ে হয়েছিল ২০১১ সালে। পরবর্তীতে পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে ২০১৬ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর ২০১৯ সালে খাদিজার সঙ্গে তিনি দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।