কাশ্মীর ইস্যুতে আপস নয়, ভারতের উদ্দেশে কঠোর বার্তা পাক সেনাপ্রধানের

কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে আবারও কড়া অবস্থান নিল পাকিস্তান। দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—কাশ্মীর পাকিস্তানের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এ নিয়ে কোনো ধরনের আপস সম্ভব নয়।
বৃহস্পতিবার (২৯ মে) পাকিস্তানের বিভিন্ন শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উপাচার্য, অধ্যক্ষ ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, “কাশ্মীর শুধু একটি অঞ্চল নয়, এটি এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। ভারত যতই চেষ্টাকরে, এই বিষয়টিকে আর চাপা দিয়ে রাখা যাবে না। কাশ্মীরকে আমরা ভুলিও না, ছাড়িও না।” — এমন ভাষায় ভারতকে সরাসরি বার্তা দেন তিনি।
ভারতের আধিপত্যের বিরুদ্ধেও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান পাক সেনাপ্রধান। বিশেষ করে পানি ইস্যুকে উল্লেখ করে বলেন, “পানি আমাদের জন্য রেড লাইন। ২৪ কোটির বেশি মানুষের পানির অধিকার নিয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।”
আরো পড়ুন…বাজেটে বড় পরিবর্তন: বাড়ছে কিছু পণ্যের দাম, সস্তা হচ্ছে কিছু
শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনারাই জাতির স্থপতি। আজ আমি যে অবস্থানে, তা আমার পিতা-মাতা ও শিক্ষকদের অবদানে। আমাদের ইতিহাস ও আত্মত্যাগের গাথা আপনারা যেন আগামী প্রজন্মকে জানাতে পারেন।”
কাশ্মীর সংকট নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কিত অভিযোগ প্রসঙ্গে আসিম মুনির বলেন, “ভারতের আসল সংকট কাশ্মীর নয়, বরং তাদের অভ্যন্তরীণ বৈষম্য ও সংখ্যালঘু নিপীড়ন। সন্ত্রাসবাদের প্রকৃত উৎস সেখানেই।” পাশাপাশি, তিনি দাবি করেন, “বেলুচিস্তানে ভারত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মদদ দিচ্ছে, তবে এসবের পেছনে প্রকৃত বেলুচ জনগণের কোনো সমর্থন নেই।”
দেশের ভেতরে জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, “মারকা-ই-হক”-এ আল্লাহর সহায়তায় পাকিস্তান টিকে থেকেছে। একটি জাতি ঐক্যবদ্ধ থাকলে, কোনো শক্তিই তাকে পরাজিত করতে পারে না।”
এদিকে একই দিন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিসরেও কাশ্মীর নিয়ে জোরালো অবস্থান নেয় পাকিস্তান। তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবেতে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, “কাশ্মীরে ভারতের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং তা এক ধরনের যুদ্ধ ঘোষণার শামিল।” তিনি জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুসারে শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর জোর দেন।
আরো পড়ুন…ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রধান সহকারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, প্রশ্নে স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ
সম্মেলনে তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাহমন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের ভূমিকাকে প্রশংসা করে বলেন, ৭ মে’র ঘটনার পর দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় পাকিস্তানের অবদান গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি এই অঞ্চলকে শান্তিপূর্ণ রাখার আহ্বান জানান।

