ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রধান সহকারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, প্রশ্নে স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রক্টর অফিসে প্রধান সহকারী পদে নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেও বাদ পড়েছেন মাস্টার্স শিক্ষার্থী মো. প্লাবন ইসলাম। অথচ দশম স্থান পাওয়া এক প্রার্থীকে ভাইভায় সর্বোচ্চ নম্বর দিয়ে নির্বাচিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী গত ২৪ মে অনুষ্ঠিত হয় লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষা। তাতে প্রথম হন প্লাবন, আর চতুর্থ হন মো. আসিফ। কিন্তু ভাইভায় পাস নম্বর ও নিয়ম অনুসরণ না করে মো. মোহাম্মেল হোসেন নামের এক প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমদের পছন্দের বলে দাবি করছেন বাদ পড়া প্রার্থীরা।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, একই দিনে তিন ধাপের পরীক্ষা—লিখিত, ব্যবহারিক ও ভাইভা—নেওয়া হয়। এমনকি প্রথমবার লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার ৪০ মিনিট পর পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয় কোনও নোটিশ ছাড়াই। এতে সঠিক পদ্ধতির ব্যত্যয় ঘটে এবং পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। মোহাম্মেলকে দীর্ঘ সময় একা রুমে রাখা, পরে তাকে নিয়ে নতুন করে লিখিত পরীক্ষা আয়োজন করা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, ভাইভার নম্বর লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষার সম্মিলিত নম্বরের চেয়ে বেশি হতে পারে না। কিন্তু এখানে ভাইভার জন্য বরাদ্দ রাখা হয় ৫০ নম্বর, যেখানে লিখিত ছিল ৩০ এবং ব্যবহারিক ২০ নম্বরে। এর বাইরে, ভাইভার পরে মেধাক্রম প্রকাশ না করেই সিলেকশন বোর্ড সুপারিশ চূড়ান্ত করে।
প্লাবন “পদ্মা টেলিভিশন”-কে বলেন, ‘লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার পরও ফল পাইনি। সহকারী প্রক্টর একবার বলেন, আমার নাম নেই, আবার বলেন রেজাল্টই হয়নি। এমন দ্বৈত বক্তব্যে আমরা হতবাক।’
আরো পড়ুন…অবাধ নির্বাচনের আশ্বাস দিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস
অন্যান্য প্রার্থীরাও অভিযোগ করেন, “কম্পিউটার পরীক্ষায় সময় ছিল ৫ মিনিট, কিন্তু মোহাম্মেলকে ১০ মিনিট সময় দেওয়া হয়। পরীক্ষার শেষেও তিনি রুমে ঢুকেন, যা অন্যদের জন্য অসম প্রতিযোগিতা তৈরি করেছে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেকশন বোর্ড সদস্য অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যে তালিকা দেওয়া হয়েছিল তা আনুষ্ঠানিক মেধাক্রম নয়, আমাদের অনেক বিধিমালা জানা ছিল না।’ তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালায় স্পষ্ট উল্লেখ আছে, মেধা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করতে হবে এবং ভাইভা নম্বর যৌক্তিক পরিমাণে সীমিত রাখতে হবে।
প্রার্থীদের দাবি, ‘পদে যে ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, তিনি ঢাবির নন, এমনকি তিনি অন্য এক কলেজের শিক্ষার্থী। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন মেধাবী শিক্ষার্থীরা বাদ পড়েছেন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা “পদ্মা টেলিভিশন”-কে বলেন, ‘বিষয়টি আপনার কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম। আমি এটি নিয়ে খোঁজ নেব।’
অন্যদিকে, প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন দাবি করেন, ‘ভাইভায় বেশি নম্বর রাখা ও পরীক্ষার নিয়ম পরিবর্তনে কোনও ভুল হয়নি। যে প্রার্থী অফিসে কাজ করেন, তিনি আমার প্রিয় হতেই পারেন।’
আরো পড়ুন… অবাধ নির্বাচনের আশ্বাস দিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস
এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “বহু কষ্ট করে আবেদন করে, পরীক্ষা দিয়ে এমন অনিয়মের মুখে পড়তে হবে, তা কল্পনাও করিনি। নিয়ম না মানলে নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের মানে কী?”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সামনের পদক্ষেপ কী হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

