মেয়ের সঙ্গে এইচএসসি দিচ্ছেন বাবা হান্নান, টার্গেট মাস্টার্স পর্যন্ত

🟩 ২৫ বছর পর ফের কলম হাতে তুলে নিয়েছেন আব্দুল হান্নান
🟩 মেয়ের সঙ্গে এসএসসি পাস, এবার একসঙ্গে এইচএসসি পরীক্ষার্থী
🟩 চায়ের দোকান ছেড়ে এখন কৃষিকাজে, লক্ষ্য উচ্চশিক্ষা
🟩 “শিক্ষার কোনো বয়স নেই”—প্রমাণ করে চলেছেন তিনি
জ্ঞান অর্জনের কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই—এই সত্যকেই জীবন্ত উদাহরণে রূপ দিয়েছেন নাটোরের লালপুর উপজেলার ৪২ বছর বয়সী আব্দুল হান্নান। ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় তিনি অংশ নিচ্ছেন নিজের মেয়ে হালিমা খাতুনের সঙ্গে। শুধু এখানেই থামতে চান না, তার লক্ষ্য মেয়ের সঙ্গে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করা।
জানা গেছে, আব্দুল হান্নান ২০২৩ সালে মেয়ের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সফলভাবে পাস করেন। এরপর মেয়ে ভর্তি হন গোপালপুর ডিগ্রি কলেজে, আর তিনি ভর্তি হন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার কাকড়ামাড়ি কলেজে। বর্তমানে তারা দুজনই ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।
২৫ বছর আগের অসমাপ্ত গল্প
১৯৯৮ সালে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস হাই স্কুলের টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় এসএসসি দিতে পারেননি হান্নান। সংসারজীবনে জড়িয়ে পড়ায় তখন আর পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু মনের মধ্যে শিক্ষার প্রতি এক অদম্য আকাঙ্ক্ষা সবসময় জেগে ছিল।
সেই সুপ্ত আগ্রহ থেকেই তিনি ২০২১-২২ সেশনে রুইগাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখায় ভর্তি হন। চায়ের দোকানে বসেই নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে ২০২৩ সালে মেয়ের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
জীবন-সংগ্রাম ও শিক্ষার প্রতি ভালোবাসা
চায়ের দোকান চালিয়ে লেখাপড়া কঠিন হওয়ায় হান্নান বর্তমানে দোকানটি ভাড়া দিয়ে নিজের জায়গায় কৃষিকাজের পাশাপাশি পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন,
“মেয়ের সঙ্গে এসএসসি পাস করেছি, এখন এইচএসসি দিচ্ছি। ইনশাআল্লাহ মেয়ের সঙ্গে মাস্টার্স পর্যন্ত যেতে চাই।”
আরও পড়ুন… ট্রাফিক মামলায় ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের মোটরসাইকেলে আগুন, পরে ক্ষমা চাইলেন চালক
সমাজ পরিবর্তনে তার উদ্যোগ
‘ফালতু বিনোদন’ নামের একটি ফেসবুক পেজে সামাজিক অসংগতি ও শিক্ষামূলক নানা ভিডিও প্রকাশ করেন হান্নান। তিনি এলাকার শিশু-কিশোরদের স্কুলমুখী করতে কাজ করছেন।
প্রতিবেশীর গর্ব
বাঘা শাহদোলা সরকারি কলেজের প্রভাষক মঞ্জুরুল হক বলেন,
“৪২ বছর বয়সে মেয়ের সঙ্গে এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়া নিঃসন্দেহে একটি অনুপ্রেরণার গল্প। আব্দুল হান্নান প্রমাণ করেছেন, সত্যিই শিক্ষার কোনো বয়স নেই।”
এই গল্প আমাদের শিখিয়ে দেয়—ইচ্ছা থাকলে বয়স, পেশা কিংবা সমাজ কোনো কিছুই বাধা হতে পারে না। আব্দুল হান্নান তার মেয়ের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে চলেছেন—একজন সত্যিকারের সংগ্রামী এবং অনুপ্রেরণাদায়ক মানুষ।

