একই ব্যক্তির দুটি পরিচয়: আওয়ামী লীগ নেতা এখন বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি!

🟩 কুমিল্লার মেঘনায় আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা মনোনীত হয়েছেন বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি
🟩 বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ, বলছেন “আত্মসম্মানে আঘাত লেগেছে”
🟩 উপজেলা বিএনপি জানায়—ভুল বুঝে কমিটিতে নাম এসেছে, বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে
🟩 তারেক রহমানের কড়া বার্তা: “আওয়ামী লীগের লোক দিয়ে কোনো কমিটি নয়”
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার বড়কান্দা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মান্নান মিয়াকে এবার বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে ওয়ার্ড বিএনপির আয়োজিত এক সভায় উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আব্দুল অদুদ মুন্সির উপস্থিতিতে তাকে এ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল গাফফার, উপদেষ্টা আব্দুল মালেক, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মমিন মেম্বারসহ স্থানীয় নেতারা।
স্থানীয় একাধিক বিএনপি নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
“আমরা যারা মাঠে থেকে হামলা-মামলা সহ্য করেছি, তাদের বাদ দিয়ে অতীতে আওয়ামী লীগে থাকা একজনকে শীর্ষ পদে বসানো আমাদের জন্য লজ্জাজনক। এতে শুধু আত্মসম্মানই ক্ষুণ্ন হচ্ছে না, সাধারণ মানুষের কাছেও দলের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।”
তাদের অভিযোগ:
🔸 বিএনপিতে অনেক ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা রয়েছেন
🔸 বারবার বিতর্কিত ও দলবদলকারীদের নেতৃত্বে বসানোয় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে
🔸 দলীয় কাঠামোতে অবিচার ও মাঠপর্যায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে
মেঘনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল গাফফার বলেন:
“ওই সভায় আমি উপস্থিত ছিলাম। তখন বুঝতে পারিনি আব্দুল মান্নান আওয়ামী লীগের লোক। পরে জানতে পেরে ইউনিয়ন কমিটিকে বাতিলের জন্য বলেছি।”
আরও পড়ুন… ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের মধ্যেই মুসলিম বিশ্বের ৫৭ দেশের নেতাদের বৈঠক আজ
তিনি আরও বলেন,
“এই কমিটি তৈরির সুপারিশ যিনি করেছেন, তাকেও সাংগঠনিক ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। আমাদের নেতা তারেক রহমান বলেছেন—আওয়ামী লীগের লোক দিয়ে কোনো কমিটি করা যাবে না।”
ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান মিয়াকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
মেঘনা উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আব্দুল অদুদ মুন্সি বলেন:
“আমরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি-সম্পাদকসহ ওয়ার্ড বিএনপির কমিটি ঘোষণা করেছিলাম। তখন কেউ বলেনি ওই লোক আওয়ামী লীগ করে। আরও তিনজন প্রার্থী ছিল—তাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ থাকায় বাদ দেওয়া হয়। পরে আমরা ইউনিয়ন নেতাদের বলেছি, এই কমিটি বাতিল করতে।”

