পাকিস্তানে বজ্রঝড় ও ভূমিধসে ১০ জনের মৃত্যু, আহত অন্তত ৪৩

পাকিস্তানের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, বজ্রপাত ও প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট দুর্যোগে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১০ জন, আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪৩ জন। দেশটির খাইবার পাখতুনখোয়া, পাঞ্জাব এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর অঞ্চলে ঘরবাড়ি ধসে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে বুধবার (২৮ মে) নিশ্চিত করেছে দেশটির সরকারি কর্তৃপক্ষ।
খাইবার পাখতুনখোয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানায়, কাশ্মীর অঞ্চলে চারজন নারী ও একজন পুরুষ এবং খাইবার পাখতুনখোয়ায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া পাঞ্জাবে আরও দুজনের প্রাণহানি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
কাশ্মীর অঞ্চলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হারুন রশিদ জানিয়েছেন, বন্যা ও ভূমিধসে একটি গ্রামের অন্তত ১২টি ঘরবাড়ি ও একটি মসজিদ ধ্বংস হয়েছে। তিনি বলেন, “একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার কার্যক্রম চলছে।”
আরও পড়ুন… পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ৬
গত শনিবারও পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড় ও বজ্রপাতের ঘটনায় অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল, আহত হন শতাধিক মানুষ। ক্রমবর্ধমান জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশটিতে ঘন ঘন এমন দুর্যোগ দেখা দিচ্ছে।
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলমান এই বৈরী আবহাওয়া আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে, বিশেষ করে উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে শনিবার পর্যন্ত ঝড়-বৃষ্টি অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানে সাধারণত জুন মাস থেকে গ্রীষ্ম শুরু হলেও, এপ্রিল ও মে মাসেই দেশটিতে অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করে। চলতি বছর এপ্রিলেই কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে। এতে পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তানের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আগাম ছুটি ঘোষণা করে বন্ধ রাখা হয়েছে।

