ভারতে আটক, জেল খেটে পুশইন, ঠাকুরগাঁও সীমান্তে ফিরছেন বাংলাদেশিরা

🟩 কারখানায় কাজ করতে গিয়ে গ্রেপ্তার, জেল খেটে ১৫০ টাকা হাতে পুশইন কেরামতের
🟩 ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনায় কাগজবিহীন শ্রমিকদের ধরপাকড়, দেশে ফিরতে বাধ্য অনেকে
🟩 এক মাসে ঠাকুরগাঁও সীমান্তে ৭৯ জনকে পুশইন, বিজিবির টহল জোরদার
🟩 বাংলাদেশিদের পাশাপাশি ভারতীয় নাগরিক ও মানসিক রোগীদেরও পুশইন করছে ভারত
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার সীমান্তঘেঁষা বেলতলা গ্রামের কেরামত আলী ভ্যানচালক ছিলেন। ভাগ্য বদলের আশায় ৯ মাস আগে ভারতে যান। সেখানে কারখানার শ্রমিক হিসেবে কাজ করলেও গত মাসে ভারতীয় পুলিশ তাকে আটক করে।
২৬ দিন জেলে থাকার পর ১৫০ টাকা হাতে দিয়ে বিএসএফ সীমান্তে ঠেলে দেয়।
কেরামতের মতো রবিউল ও আফজাল নামের দুই যুবকও কাজ করতেন ভারতীয় ক্রাশার মেশিনে। মাসে আয় করতেন প্রায় ৬০ হাজার টাকা।
তাদেরও কোনো বৈধ কাগজ না থাকায় ভারতীয় পুলিশ আটক করে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। এখন তারা বলছেন,
“দেশেই থাকব, আর ভারতের দিকে যাব না।”
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধাবস্থা তৈরি হওয়ায় কাগজবিহীন শ্রমিকদের ধরপাকড় শুরু করে ভারত।
কারখানা, পাথর ভাঙা মেশিনসহ নানা জায়গা থেকে বাংলাদেশিদের ধরে পুশইন করে দিচ্ছে।
শুধু বাংলাদেশিরাই নয়, ভারতীয় নাগরিক ও মানসিক ভারসাম্যহীন রোগীদেরও পুশইন করছে বিএসএফ, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মন্তব্য চিকিৎসকদের।
আরও পড়ুন… ঘুষ দিলেও মেলেনি কাজ, ইউএনওর দারস্থ ভুক্তভোগী, তদন্তে উঠছে প্রশ্ন
ঠাকুরগাঁও জেলার ভারতীয় সীমান্ত ১৫৬ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত।
পুলিশের তথ্যমতে, গত এক মাসে জেলায় মোট ৭৯ জনকে পুশইন করা হয়েছে।
এর মধ্যে হরিপুরে ৫০ জন ও পীরগঞ্জে ২৯ জন। তাদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুরের বিজিবি সদস্য সংখ্যা ও পাহারা বাড়িয়েছে। সীমান্তবর্তী বিওপিগুলোতে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন,
“যাদের পুশইন করা হচ্ছে, তাদের পরিচয় যাচাই করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। এর মধ্যে দুজন ভারতীয় নাগরিককেও ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
📌 সীমান্তবর্তী এলাকার জনজীবনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে এই পুশইন পরিস্থিতি।
নিজস্ব প্রতিবেদক

