ঘুষ দিলেও মেলেনি কাজ, ইউএনওর দারস্থ ভুক্তভোগী, তদন্তে উঠছে প্রশ্ন

🟩 সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ
🟩 উৎকোচ দিয়েও প্রতিবেদন না পাওয়ায় ইউএনওর কাছে আবেদন করেন ভুক্তভোগী
🟩 তদন্তে অভিযুক্ত অফিসকেই দায়িত্ব দেওয়ায় অসন্তোষ
🟩 সার্ভেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করলেও ইউএনও বলছেন, প্রমাণ মিললে আইনানুগ ব্যবস্থা
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. জাকিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ এনে সেই টাকা ফেরতের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে আবেদন করেছেন এক ভুক্তভোগী।
আবেদনটি করেছেন উপজেলার করশালিকা গ্রামের বাসিন্দা মো. গোলাম হোসেন, তিনি আব্দুল হাই সরকারের ছেলে।
আবেদনে বলা হয়, করশালিকা ও চরধুনাইল গ্রামের চলাচলের রাস্তা নির্মাণের জন্য নদী খননের বালুর প্রয়োজন হয়। এজন্য গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে সার্ভেয়ারের কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়।
সরেজমিন পরিদর্শনের পর প্রতিবেদন দেওয়ার বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা উৎকোচ দাবি করেন সার্ভেয়ার জাকিরুল।
রাস্তা নির্মাণ অত্যাবশ্যক হওয়ায় বাধ্য হয়ে ঘুষ দেওয়া হয়, কিন্তু তারপরও গ্রামবাসীর পক্ষে কোনো প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি।
ঘুষের টাকা ফেরতের দাবিতে ২৯ এপ্রিল ইউএনও মো. কামরুজ্জামানের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়।
সম্প্রতি বিষয়টি জনসমক্ষে এলে শুরু হয় আলোচনা।
আরও পড়ুন… বগুড়ায় বিল নিয়ে সংঘর্ষে প্রাণ গেল বিএনপি নেতার, আহত আরও ৩
ভুক্তভোগী গোলাম হোসেন বলেন,
“নদী খননের নামে এলাকায় চলছে হরিলুট। প্রশাসনের কেউ কেউ কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আর আমরা জনগণের টাকায় নিজেদের রাস্তা বানাতে গিয়েও দুর্নীতির শিকার হচ্ছি। এখন ঘুষের টাকাও ফেরত দিচ্ছে না।”
তিনি আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তদন্তের দায়িত্ব তাকেই দেওয়া হয়েছে।”
অন্যদিকে সার্ভেয়ার জাকিরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“আমি কারও কাছ থেকে কোনো টাকা নিইনি।”
শাহজাদপুর ইউএনও মো. কামরুজ্জামান জানান,
“ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুশফিকুর রহমানকে দেওয়া হয়েছে। দোষী প্রমাণ হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

