৩ হাজার কোটি টাকার পাথর লুটে বেপরোয়া বিএনপি নেতাকর্মীরা

🟩 পর্যটন স্পট জাফলং, সাদাপাথর ও বিছনাকান্দির সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে রাত দিন অবৈধ পাথর উত্তোলনে
🟩 বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও শ্রমিক দলের নেতারা অভিযানে মূল ভূমিকা রাখছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ
🟩 বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা সত্ত্বেও অবৈধ ক্রাশার একটুও বন্ধ হয়নি
🟩 ২০১৫–২০২৪: জাফলংয়ের মজুদ ৩.৭৪ কোটি ঘনফুট থেকে কমে প্রায় ১ কোটি; মূল্য হানি শতকোটি টাকা!
সিলেটের জাফলং, সাদাপাথর, বিছনাকান্দিসহ বিলুপ্তির মুখে পড়েছে প্রকৃতিকন্যা সুন্দর প্রকৃতি, কারণ রাতের আঁধারে চালানো হচ্ছে অবাধ পাথর ও বালু উত্তোলন, যা প্রশাসনের অদিহাতেও থামছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ‘লুট-সিন্ডিকেট’ চালিত হচ্ছে বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দদের নেতৃত্বে।
তারা বলছেন, নিয়মিত টাক্সফোর্স অভিযান হলেও খবর আগে থেকেই ফাঁস হয়ে যায়—তারপরও উদ্ধার হচ্ছেনা এসব সংস্থান।
⚡ প্রশাসন-অভিযোগ বৃদ্ধির চিত্র
-
৩০০টিরও বেশি অবৈধ ক্রাশার মেশিনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে, তবু উৎপাদন অব্যাহত।
-
আইনশৃঙ্খলার অবনতি পরপর: সাবেক বা বর্তমান কর্মকর্তারা কেউই নিয়ম ধরে উদ্বোধন বা অনুমোদন নেই বলেও কার্যত নির্বিচারে চলছে পাথর উত্তোলন।
-
অভিযোগ, ৫ আগস্ট ২০২৩ থেকে সরকার পতন নিঃসঙ্গ হয়েই শুরু হয় অর্থাৎ হাজার কোটি টাকার পাথর ও বালু লুট।
🧾 মামলার সংখ্যা ও ক্ষত-পরিমাণ
| এলাকা | মামলা | আসামি | মজুদের পরিমাণ (জাফলং) |
|---|---|---|---|
| জাফলং | ৯ | ২২৬ | ৩.৭৪ → ২.৭৪ কোটি ঘনফুট |
| বিছনাকান্দি | ১ | ~৭৩ | ~৬০ লাখ ঘনফুট |
| শ্রীপুর (জৈন্তাপুর) | ১ | — | ~৩ কোটি টাকার পাথর |
| সারি নদী | ১ | — | ~৩ কোটি টাকার বালু |
-
আসামিদের অধিকাংশ জামিনে মুক্ত, অনেকেই আজও হামেশাই পালিয়েছে।
-
২৬৬ জন বিএনপি-সহায়ক সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীকে মামলা করা হয়েছে, জ্যেষ্ঠদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হলেও কেউ প্রকাশ্যে দোষী প্রমাণিত হয়নি।
আরও পড়ুন… কেরানীগঞ্জে গভীর রাতে বিস্ফোরণ: দগ্ধ শিশু ও মা-বাবা, ঝুঁকিপূর্ণ পাঁচতলা ভবন
🛑 ক্ষমতার বদলে ‘লুটের কার্টেল’
-
২০১৫ সালের গেজেট অনুসারে জাফলং ইসিএ (Environment Conservation Area) ঘোষণা করা হয়েছিল, কিন্তু পরিপালন হয়নি।
-
আগামি প্রাকৃতিক প্রভাব ও পর্যটন ব্যাহত— এ নিয়ে সুজনসহ অনেক সংগঠন প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্ন তুলেছে:
“জিআইএস ছাড়া কোনো করি না, প্রশাসন ব্যর্থ হয়ে গেছে।”
✅ প্রশাসনের পদক্ষেপ— ফিলিংস এবং খামতি
-
দলীয় রাজনীতি অবজ্ঞার অভিযোগে বিএনপির স্থানীয় নেতাদে পদমর্যাদা হারিয়েছেন, তবে এদের কারো বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা কার্যকর হয়নি।
-
সরকারি ম্যাজিস্ট্রেট, পরিবেশ অধিদপ্তর, ভূমি অফিস… নির্বিঘ্নে অনেকেই প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের অবহেলায় দায়ী বলেই মনে করছে সচেতন মহল।
-
জ্বালানি-খনিজ মন্ত্রণালয়ের তিনজন ম্যাজিস্ট্রেট পাঠানো হয়েছে, যা দেখে মনে করছে—“বলছে না কি করছো?”
🔍 উপসংহার
আজকের সিলেট: যেখানে বালু ও পাথরের কার্বনিয়ায় আজ কাঠামোগত ধ্বংস, সংস্কার ও পর্যটন শূন্য, সেখানে প্রশাসন & রাজনৈতিক নেতা উভয়ের কার্যকারিতা পরীক্ষার মুখে।
“বন্যা, ঝড়, বালু, পাথর—সবইতো সামলানো যায়, কিন্তু ‘কোর’ প্রশ্ন হল: এই ‘লুট-মহলকে’ কে বেঁধে রাখবে?”

