আদালতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করলেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা

🟧 শুনানি শেষে নুরুল হুদার রিমান্ড, সাবেক দুই এমপিকে পাঠানো হয় কারাগারে
🟧 এজলাসের বাইরে হঠাৎ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন ১০–১৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি
🟧 মুখে মাস্ক, হাতে মোবাইল নিয়ে আসামিদের ভিডিও করছিলেন স্লোগানদাতারা
🟧 বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের ধাওয়ায় আদালত চত্বরে হাতাহাতি ও উত্তেজনা সৃষ্টি
সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা, সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক এমপি সাবিনা আক্তার তুহিন ও মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক এমপি মো. ফয়সাল বিপ্লব-এর মামলার শুনানি শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমানের আদালত তাদের বিরুদ্ধে আদেশ দেন।
সোমবার (২৩ জুন) বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে তাদের আদালতে তোলা হয়। শুনানি শেষে আদালত নুরুল হুদার চার দিনের রিমান্ড এবং তুহিন ও বিপ্লবকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তবে রায়ের পরপরই আদালত ভবনের বাইরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিকেল ৫টা ১৭ মিনিটে যখন তিনজন আসামিকে পুলিশের নিরাপত্তায় তিনতলা থেকে নিচে নামিয়ে হাজতখানায় নেয়া হচ্ছিল, তখন ১০–১৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি মুখে মাস্ক ও হাতে মোবাইল নিয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে থাকেন।
তাদের স্লোগানে বলা হচ্ছিল—“জয় বাংলা, ফয়সাল ভাই তুমি এগিয়ে চলো” ইত্যাদি। তারা সিঁড়ি দিয়ে একতলা পর্যন্ত এই স্লোগান দিতে দিতে নামেন এবং মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন।
এ সময় আদালতে উপস্থিত থাকা বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা উত্তেজিত হয়ে স্লোগানদাতাদের ধাওয়া দেন। আইনজীবীদের ধাক্কা, কিলঘুষি ও চিৎকারে পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্লোগানদাতারা ছত্রভঙ্গ হয়ে দৌড়ে পালিয়ে যান।
আরও পড়ুন… জুলাই-আগস্ট গণহত্যা মামলায় শেখ হাসিনা ও দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি ১ জুলাই
নিচতলার সিঁড়ির সামনে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। পুলিশের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি সামাল দিতে আসামিদের আদালত ভবনের বিকল্প পথে নিচে নামিয়ে হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পদ্মা টেলিভিশনের পক্ষ থেকে জানা গেছে, ধাওয়ার একপর্যায়ে কয়েকজন স্লোগানকারী ভবন ত্যাগের চেষ্টা করলে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা তাদের পেছনে ধাওয়া দেন।
এ বিষয়ে ধাওয়া দেওয়া আইনজীবী আনোয়ারুল ইসলাম বলেন,
“নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আদালতের পরিবেশ অস্থিতিশীল করতেই ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়েছে। এটি ছিল পরিকল্পিত ও উসকানিমূলক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ভবিষ্যতে আরও কঠোর হতে হবে।”
ঘটনার পর আদালত চত্বরে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

