বীর মুক্তিযোদ্ধার শহীদ পুত্র ১২ বছর পর জন্মালেন! বয়স জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত বুলবুল খন্দোকার

নড়াইলের লোহাগড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ খন্দোকার মহিউদ্দীনের ছেলে পরিচয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) জন্মতারিখ ১৯৮৩ সাল দেখিয়েছেন বুলবুল খন্দোকার, যদিও তার বাবা শহীদ হন ১৯৭১ সালের ৩১ মার্চ। এ ঘটনায় বয়স জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
🔹 ভাগনে শাহনাজ মো. ফারুক জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন, যেখানে তিনি দাবি করেন, বুলবুল প্রকৃতপক্ষে ১৯৬৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন, তার আগের নাম ছিল খন্দোকার নাছিরউদ্দীন।
🔹 অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ২০১৬ সালে এনআইডিতে নিজের নাম, পিতার নাম এবং জন্মসাল পরিবর্তন করে নতুন করে জন্মতারিখ ১৯৮৩ সালের ১২ জুন দেখান। অথচ, তার পিতা তখন দীর্ঘদিন শহীদ।
🔹 ফারুক বলেন, “যিনি ১৯৭১-এ শহীদ হয়েছেন, তার সন্তান ১৯৮৩-তে জন্মাতে পারে না।” তিনি আরও দাবি করেন, মামা বুলবুল খন্দোকার চাকরি পাওয়ার উদ্দেশ্যে এই বয়স জালিয়াতি করেছেন।
🔹 এ বিষয়ে জানতে চাইলে বুলবুল নিজেই বয়স সংশোধনের বিষয়টি স্বীকার করেন এবং জানান, “আমার বিষয়টি তৎকালীন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানতেন।”
আরও পড়ুন… সাধারণ পুলিশের হাতে ভারী অস্ত্র নয়, থাকবে শুধু রাইফেল: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
🔹 জানা যায়, বুলবুল খন্দোকার ২০১৫ সালের ৫ নভেম্বর উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে অফিস সহায়ক হিসেবে নিয়োগ পান, পরে তথ্য ও গবেষণা বিভাগে যোগ দেন। এনআইডি সংশোধনের আবেদন করেন ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে, যা অনুমোদিত হয়।
🔹 জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর বলেছেন, “অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশোধন বাতিল করে পূর্বের তথ্য পুনর্বহাল করা হবে।”
সূত্র: আজকের পত্রিকা

