নবাবগঞ্জে পুলিশের অভিযানের পর ক্ষেত থেকে যুবদল নেতার লাশ উদ্ধার

🟩 ভোরে পুলিশ গ্রেপ্তারে বাড়িতে গেলে পালিয়ে যান আমজাদ, এক ঘণ্টা পর ক্ষেত থেকে লাশ উদ্ধার
🟩 নিহত আমজাদ হোসেন নবাবগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক
🟩 পরিবারের দাবি—মুখে ও চোখে জখম, হত্যার সন্দেহ
🟩 পুলিশ বলছে, চেক জালিয়াতিসহ ২০টির বেশি মামলা ছিল আমজাদের নামে
ঢাকার নবাবগঞ্জে ধনচে ক্ষেতে পড়ে থাকা অবস্থায় যুবদলের এক নেতার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহতের নাম আমজাদ হোসেন (৫০)। তিনি উপজেলার মাঝিরকান্দা এলাকার মৃধাকান্দার বাসিন্দা এবং নবাবগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
রোববার (৬ জুলাই) ভোর ৫টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এর এক ঘণ্টা আগে পুলিশ চেক জালিয়াতির মামলায় তাকে গ্রেপ্তারে বাড়িতে গিয়েছিল।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোর ৪টার দিকে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ আমজাদের বাড়িতে যায়। কিন্তু তাকে না পেয়ে পুলিশ ফিরে যায়।
এর কিছুক্ষণ পর আমজাদ ঘর থেকে বের হন। পরিবারের ধারণা, তিনি ফজরের নামাজ পড়তে মসজিদে যাচ্ছিলেন।
কিন্তু ভোর ৫টার দিকে স্থানীয়রা তাকে ক্ষেতের পাশে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্ত্রী মাহফুজা বেগম বলেন,
“আমি জানি না আমার স্বামী কীভাবে মারা গেল। আল্লাহর কাছে বিচার চাই।”
নিহতের মেয়ে আশা আক্তার বলেন,
“বাবার মুখে ও চোখের কোণে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কেউ তাকে হত্যা করেছে কি না বুঝতে পারছি না।”
ভাই জাহিদুল ইসলাম বলেন,
“আমার ভাই রাজনীতি করত। অনেক প্রতিপক্ষ ছিল। পুলিশ ধরতে গেল, কিন্তু সে কেন পড়ে মারা গেল—বুঝতে পারছি না।”
নবাবগঞ্জ থানার ওসি মমিনুল ইসলাম বলেন,
“আমজাদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত জরুরি। রিপোর্ট হাতে পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।”
আরও পড়ুন… সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার: বিপুল পরিমাণ চিংড়ি, ডিঙি নৌকা ও জাল জব্দ
তিনি আরও জানান,
“আমজাদের নামে অন্তত ২০টি মামলা রয়েছে। একটি চেক জালিয়াতির মামলায় তার এক বছরের সাজাও হয়েছিল। পুলিশ গ্রেপ্তারে গেলে বাসার দরজা না খোলায় ফিরে আসে। পরে তার মৃত্যুর খবর পাই।”
অভিযানে অংশ নেওয়া এসআই রাজিবুল ইসলাম ও দেলোয়ার হোসেন জানান, তারা বাড়ির ভেতরে ঢোকেননি।
এই মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে এলাকায় চরম রহস্য ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অনেকেই বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।