দিনাজপুরে ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাই নাটক: নিজেই পরিকল্পনাকারী ব্যবসায়ী মইনুল

🟩 মাত্র ১১ ঘণ্টার তদন্তেই রহস্যভেদ করল জেলা পুলিশ
🟩 লোনের দায় থেকে মুক্তি পেতেই সাজানো হয় ছিনতাইয়ের নাটক
🟩 ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে উদ্ধার ১১ লাখ টাকা ও প্রমাণাদি
🟩 “নাটক শেষ হলো”—ঘোষণা অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের
দিনাজপুরের বিরলে দিনের আলোতেই এক ব্যবসায়ীর মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। তবে নাটকটি সত্য নয়—এটি ছিল নিজেই সাজানো পরিকল্পনা। আর সেই রহস্য মাত্র ১১ ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ঘাটন করে প্রশংসা কুড়িয়েছে দিনাজপুর জেলা পুলিশ।
ঘটনার পরপরই জেলা গোয়েন্দা সংস্থাসহ পুলিশের বিভিন্ন টিম মাঠে নামে। তদন্তে উঠে আসে, বিরলের ভান্ডারা ইউনিয়নের গোপালপুর বড়বাড়ি গ্রামের ব্যবসায়ী মইনুল ইসলাম নিজেই এই ছিনতাইয়ের গল্প রচনা করেছিলেন। তিনি সার-কীটনাশক, ধান ও ভুট্টা ব্যবসার পাশাপাশি বিভিন্ন লোনের বোঝায় জর্জরিত ছিলেন।
বুধবার (২৫ জুন) রাত ১২টার দিকে দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আব্দুল হালিম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে লেখেন—
“৩৪ লাখ টাকা ছিনতাই, অতঃপর পুলিশের জালে আসল অপরাধী। অবশেষে ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাই নাটকের রহস্য উন্মোচন করলাম।”
তিনি আরও জানান,
“ব্যাংকের সিসি লোনের টাকা শোধ করতে না পারায় ছিনতাইয়ের নাটক করেন মইনুল ইসলাম। তার বাড়ি থেকেই উদ্ধার করা হয় আইএফআইসি ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা ৮ লাখ টাকা, আরও ৩ লাখ টাকা, মোটরসাইকেলের চাবি ও মোবাইল ফোন। নাটক শেষ হলো। পুলিশের প্রতি আস্থা রাখুন।”
পুলিশ সুপার মো. মারুফাত হুসাইন বলেন,
“ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা দ্রুত তদন্ত শুরু করি। অস্ত্র ব্যবহারের তথ্য ছিল, তাই ডিবি ও অন্যান্য টিম নিয়ে নামি। পরে জানতে পারি মইনুলের একাধিক লোন আছে এবং লোনের চাপ থেকে মুক্তি পেতেই তিনি নিজেই এই পরিকল্পনা করেন।”
আরও পড়ুন… সাতক্ষীরার সব প্রতিষ্ঠানে ডোপ টেস্টের নির্দেশ জেলা প্রশাসকের
তিনি আরও জানান,
“ব্যাংকের ৮ লাখ টাকা সহ আরও ৩ লাখ টাকা আমরা তার বাড়ি থেকে উদ্ধার করি। সেই টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।”
ব্যবসায়ী মইনুল ইসলাম স্বীকার করেন,
“আমি থানায় একটি জিডি করার জন্য এই নাটকটি করেছি। কিন্তু বিষয়টি যে এতদূর গড়াবে, তা বুঝিনি।”
উল্লেখ্য, ঘটনার পর তিনি দাবি করেছিলেন, গত বুধবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে বিরল থেকে দিনাজপুর যাওয়ার পথে বানিয়াপাড়া রেলগেটসংলগ্ন এলাকায় মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে তার ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাই করা হয়। এই বক্তব্যে এলাকায় তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়। তবে পদ্মা টেলিভিশনের অনুসন্ধানে দেখা যায়, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত একটি প্রতারণার কৌশল, যা পুলিশের তৎপরতায় খুব দ্রুতই উন্মোচিত হয়েছে।

