ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার আহ্বান মালয়েশিয়ার, কূটনৈতিক সমাধানে বিশ্ব

🟩 ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান আনোয়ার ইব্রাহিমের
🟩 ‘ইরানকে বাধা দিলে, ইসরায়েলকে ছাড় দেওয়া কেন?’—প্রশ্ন তোলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী
🟩 মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় পরমাণু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত, তবু ইরান কর্মসূচি চালিয়ে যাবে
🟩 চীন, রাশিয়া, লাতিন আমেরিকাসহ অনেক দেশ সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে
ইসরায়েলের সাম্প্রতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি বলেন,
“ইসরায়েল যখন অন্য দেশের ওপর হামলা চালায় এবং নিরীহ নারী-শিশুকে হত্যা করে, তখন প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক। আমাদের অবস্থান ন্যায়ের পক্ষে।”
মঙ্গলবার (২৪ জুন) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ মন্তব্য উঠে আসে।
তিনি আরও বলেন, “গাজায় এখনো নারীদের ও শিশুদের হত্যা করছে ইসরায়েল। এর মধ্যেই তারা ইরানকে আক্রমণ করছে, ইরানও জবাব দিচ্ছে। বাইরের শক্তিগুলোর হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করছে।”
আনোয়ার প্রশ্ন তোলেন,
“যদি ইরানকে প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধা দেওয়া হয়, তবে ইসরায়েলকে বারবার হামলা করতে দেওয়া হচ্ছে কেন?”
এই পরিস্থিতিতে তিনি সব পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানান।
এর আগে, আঙ্কারায় ওআইসি সম্মেলনের ফাঁকে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ হাজি হাসান ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠক হয়। সেখানে মালয়েশিয়া মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানায়।
আরও পড়ুন.
গত ১৩ জুন থেকে ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে দফায় দফায় হামলা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইরানের ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহান পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করেই এই হামলা হয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, হামলায় ‘বাংকার বাস্টার’ বোমা ব্যবহার করা হয়েছে।
ইরান জানিয়েছে, তারা কর্মসূচি বন্ধ করবে না এবং গুরুত্বপূর্ণ ইউরেনিয়াম ফোরদো থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থা জানিয়েছে, বিকিরণ বেড়েছে এমন কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
বিশ্বজুড়ে এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
-
চীন ও রাশিয়া হামলাকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন’ বলেছে
-
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ভারত, সৌদি আরব কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে
-
মেক্সিকো, চিলি, কিউবা, ভেনেজুয়েলাও সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছে
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন,
“এটি ভয়াবহ ও বিপজ্জনক উত্তেজনা। এর সামরিক সমাধান নেই। কেবল কূটনৈতিক পথেই উত্তরণ সম্ভব।”
সংঘাত নয়—শান্তি, আগ্রাসন নয়—আলোচনার ডাকই এখন বিশ্ববাসীর প্রধান প্রত্যাশা।

