দাফনের আগ মুহূর্তে জানা গেল ‘মৃত’ ব্যক্তি জীবিত, সিলেটের জকিগঞ্জে চাঞ্চল্য

🟩 সিলেটে দাফনের আগ মুহূর্তে ‘মৃত’ ব্যক্তি জীবিত থাকার খবর ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য
🟩 ভুল করে মানসিক রোগী বড় ভাই ভেবে অজ্ঞাত লাশ নিয়ে যান ছোট ভাই
🟩 পরিচিতজনের ফোনে জানাজা ও দাফনের আগেই জানা যায় ভাই জীবিত
🟩 জানাজা ও দাফনের পর হাসপাতাল ও পুলিশের মন্তব্যে বিভ্রান্তি স্পষ্ট
সিলেটের জকিগঞ্জে ঘটেছে এক বিস্ময়কর ঘটনা। দাফনের জন্য কবর খোঁড়া হচ্ছে, জানাজাও প্রায় প্রস্তুত—এমন সময় খবর আসে, যাকে মৃত ভেবে দাফনের আয়োজন চলছে, তিনি জীবিত! এই ঘটনার পর সারাদেশের মতো জকিগঞ্জ জুড়ে বিস্ময় আর চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (২২ জুন) সকালে জকিগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগ্রাম (এতিছানগর) গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।
জানা গেছে, জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা এক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে নিজের মানসিক ভারসাম্যহীন বড় ভাই সাবু আহমদ (৫৫) মনে করে লাশ নিয়ে যান ছোট ভাই বাবুল আহমদ।
বাবুল আহমদ জানান, “সাবু এক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ ছিলেন। শনিবার রাত ১০টার দিকে ফেসবুকে ছবি দেখে আমি ভাইয়ের লাশ হাসপাতালে আছে মনে করে আত্মীয়স্বজন নিয়ে সেখানে যাই এবং লাশ বাড়িতে নিয়ে আসি।”
দাফনের জন্য কবর খোঁড়ার আগ মুহূর্তে একজন পরিচিত ব্যক্তি ফোনে জানান, সাবু আহমদ জীবিত আছেন এবং স্থানীয় গঙ্গাজল বাজারে রয়েছেন।
এই সময় বাবুল লাশটি ফেরত দিতে চাইলে, জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতা মিজানুর রহমানের অনুরোধে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হয়।
আরও পড়ুন… ময়মনসিংহে চুরি-ছিনতাই-চাঁদাবাজির প্রতিবাদে ছাত্রজনতার বিক্ষোভ
জানাজার ইমাম এবং জকিগঞ্জ জামায়াতের আমীর মাওলানা জালাল উদ্দিন বলেন, “ওসি সাহেবের সঙ্গে কথা বলে মানবিক কারণে জানাজা পড়িয়ে দাফনের অনুমতি দিই।”
জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শেখ মো. আব্দুল আহাদ বলেন, “অজ্ঞাত পরিচয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিকে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সিলেটে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছিল। এর মধ্যে আত্মীয় পরিচয়ে লোকজন লাশ নিয়ে যান। এখন শুনছি, মৃত ব্যক্তি তাদের কেউ নন।”
জকিগঞ্জ থানার ওসি জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, “একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি হাসপাতালে মারা গেছেন। পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই পরিবার লাশ দাবি করে নিয়ে গেছে। এখন দাফনের পর জানা যাচ্ছে, মৃত ব্যক্তি সাবু আহমদ নন—তিনি জীবিত।”
ভুল পরিচয়ে দাফনের এই ঘটনা স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় এক প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে, একইসাথে তৈরি করেছে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

