হারিয়ে যাচ্ছে শৈল্পিক বাবুই পাখির বাসা, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো দেখার সুযোগ পাবে না

🪶 গ্রামবাংলার তালগাছে আর ঝুলে না সারি সারি বাবুই পাখির বাসা
🌿 পরিবেশ বিপর্যয় ও বন উজাড়ের কারণে হারিয়ে যাচ্ছে প্রাকৃতিক এই শিল্প
🧵 খড়, লতা ও পাতায় তৈরি বাসাগুলো আজ বিলুপ্তির পথে
🗣️ “আবাসস্থল নিশ্চিত করা গেলে পাখিদের জন্য অভয়ারণ্য গড়া সম্ভব”—পরিবেশকর্মী
রজনীকান্ত সেনের ভাষায় বলতে হয়—
“বাবুই পাখিরে ডাকি বলিছে চড়াই, কুঁড়ে ঘরে থেকে করো শিল্পের বড়াই”
—এই শৈল্পিক গর্বের বাবুই পাখি আজ কেবল পাঠ্যপুস্তকের পাতায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। বাস্তবের মাঠে-ময়দানে আর তেমন দেখা মেলে না এই অপূর্ব কারুশিল্পের। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বাবুই পাখির বাসা এখন বিলুপ্তির মুখে।
এক সময় গ্রামীণ অঞ্চলের তালগাছ, নারিকেল, খেজুর কিংবা কাশবনে ঝুলে থাকত শত শত বাবুই পাখির বাসা। এসব বাসা ছিল যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি মজবুত। ঝড়-বৃষ্টিতেও সহজে পড়ত না নিচে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বনায়ন ধ্বংস ও পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতায় হারিয়ে যাচ্ছে এই পাখি ও তাদের বাসস্থান।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন,
-
বাবুই পাখিরা প্রতি প্রজনন মৌসুমে (এপ্রিল-মে) ৫-৬টি বাসা তৈরি করে।
-
তারা তাল বা খেজুর গাছেই বাসা বাঁধতে পছন্দ করে।
-
ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে বের হলে স্ত্রী বাবুই বিভিন্ন জায়গা থেকে খাবার এনে খাওয়ায়।
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর, মেহেরপুর বা সাতক্ষীরা অঞ্চলে এখনো হাতে গোনা কিছু গাছে বাবুই পাখির বাসা দেখা যায়, তবে সংখ্যাটি দিনকে দিন কমছে। বিশেষ করে তালগাছ কমে যাওয়ায় বাবুইদের নিরাপদ আবাস সংকুচিত হয়েছে।
আরও পড়ুন… পানির দামে দুধ বিক্রি, বিপাকে মানিকগঞ্জের খামারিরা
হরিপুরের পরিবেশ নিয়ে কাজ করা খামারি রাশেদুল ইসলাম রাসেল পদ্মা টেলিভিশনকে বলেন,
“বাবুই পাখির কিচিরমিচির শব্দ আমাদের বিমোহিত করত। এখন তারা হারিয়ে যাচ্ছে বাসস্থানের অভাবে।”
পরিবেশবাদী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘অক্সিজেন’-এর সভাপতি মোজাহেদুর ইসলাম ইমন জানান,
“যদি এখনই পাখিবিনাশী কর্মকাণ্ড বন্ধ না করা হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আর কখনও বাবুই পাখিকে সরাসরি দেখতে পাবে না। শুধু বই কিংবা ছবি দিয়েই চেনাতে হবে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন,
-
তালগাছ রোপণ
-
পাখির অভয়ারণ্য ঘোষণা
-
পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা
—এই পদক্ষেপগুলো নিতে পারলেই হয়তো আবারও ফিরতে পারে বাবুই পাখির ছায়াসঙ্গী সেই শিল্পকলা।

