পানির দামে দুধ বিক্রি, বিপাকে মানিকগঞ্জের খামারিরা

🥛 দুধের দাম নেমে এসেছে ৩০-৪০ টাকায়, যা বোতলজাত পানির সমান
🌧️ বৃষ্টির কারণে পাইকার কম, চাহিদাও তলানিতে
📉 গো-খাদ্যের দাম বেশি, বিক্রি কম—দুশ্চিন্তায় খামারিরা
🗣️ প্রাণিসম্পদ বিভাগ বলছে, শিগগিরই দাম বাড়বে
মানিকগঞ্জের ঘিওরের বাজারগুলোতে বর্তমানে পানির দামে বিক্রি হচ্ছে গরুর দুধ। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি, তার ওপর ঈদ পরবর্তী মৌসুমে বাজারে আম-কাঁঠালের প্রভাব পড়ায় দুধের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় খামারিরা।
রোববার (২২ জুন) সকালে উপজেলার সিংজুরী বাজারে সরেজমিন দেখা যায়, আশপাশের প্রায় ২০টি গ্রামের কৃষক ও খামারিরা দুধ নিয়ে বাজারে এসেছেন। সেখানে মানভেদে প্রতি লিটার দুধ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ টাকায়।
একইসঙ্গে দুধ বিক্রি করতে আসা খামারিদের কণ্ঠে হতাশা—
-
“১৮ কেজি দুধ নিয়ে এসেছি, ৪০ টাকা দরে বিক্রি করেছি,” বলেন কৃষক মজনু মিয়া।
-
“৯ লিটার দুধ এনেছি, ৩৫ টাকা দরে বিক্রি করেছি, গরুর খাবারের টাকাও ওঠে না,” বলেন কৃষক আ. হালেম।
বাজারে উপস্থিত দুধের পাইকার হাবিব ঘোষ জানান,
“বৃষ্টির কারণে চাহিদা কম। আবার ফলের মৌসুমে মিষ্টির দোকানেও দুধের চাহিদা কমে গেছে।”
আরও পড়ুন… ভরা মৌসুমেও নওগাঁয় চালের দাম বেড়ে বিপাকে নিম্নআয়ের মানুষ
একইসঙ্গে গো-খাদ্যের দাম বাড়ায় খরচের ভার সহ্য করতে না পেরে অনেকে বাধ্য হয়ে লস দিয়েই দুধ বিক্রি করছেন।
এ বিষয়ে সচেতন খামারিরা বলছেন, “সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়া এই সংকট কেটে উঠবে না। ন্যায্য দামের নিশ্চয়তা চাই।”
এ বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ মজিবুর রহমান পদ্মা টেলিভিশনকে বলেন,
“বর্তমানে উৎপাদন বেশি, চাহিদা কম। তবে ঈদের পরে দেশীয় ফলের মৌসুম হওয়ায় এমন হচ্ছে। খুব দ্রুত বাজারে চাহিদা বাড়বে এবং কৃষকরা ন্যায্য দাম পাবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা বাজার নিয়মিত মনিটরিং করছি। খামারিদের হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।”
খামারিদের মতে, পরিস্থিতির উন্নতির জন্য দ্রুত প্রণোদনা, বাজার নিয়ন্ত্রণ ও দুধ সংগ্রহের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। না হলে গ্রামাঞ্চলে গবাদি খামার টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

