ভরা মৌসুমেও নওগাঁয় চালের দাম বেড়ে বিপাকে নিম্নআয়ের মানুষ

🌾 ধান-চালের জেলা নওগাঁয় প্রতি কেজিতে ৩-৮ টাকা পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি
📦 মিলারদের ‘সিন্ডিকেট’ ও অতিরিক্ত মজুতই মূল কারণ বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা
🛒 খুচরা পর্যায়ে বস্তাপ্রতি ২০০-৪০০ টাকা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে চাল
📢 জেলা প্রশাসনের হুঁশিয়ারি: দরকার হলে অভিযান চালানো হবে
নওগাঁয় ভরা মৌসুমেও চালের দাম হঠাৎ বাড়ায় বিপাকে পড়েছে নিম্নমধ্যম আয়ের মানুষ। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে চালের কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ২ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
পাইকারি ও খুচরা বাজারের তথ্য অনুযায়ী—
-
পাইকারি পর্যায়ে কেজিপ্রতি চালের দাম বেড়েছে ২-৪ টাকা
-
খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ৫-৮ টাকা
-
বাজারে এখন প্রতি কেজি জিরাশাইল ৭০-৭২ টাকা, কাটারি ৭৫-৮০ টাকা, স্বর্ণা-৫ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দেশের অন্যতম ধান-চাল উৎপাদক জেলা হওয়া সত্ত্বেও, বড় ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মজুত ও মিলারদের সিন্ডিকেটের কারণে বাজারে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
পৌর ক্ষুদ্র চালবাজার সমিতির সভাপতি মকবুল হোসেন পদ্মা টেলিভিশনকে বলেন,
“বড় বড় ব্যবসায়ীরা হাজার হাজার টন ধান কিনে মজুত করছে। আমরা ছোট ব্যবসায়ীরা চাহিদা অনুযায়ী চাল পাচ্ছি না। সরকারি নজরদারি না থাকায় তারা সুযোগ নিচ্ছে।”
মেসার্স তাপস খাদ্য ভান্ডারের প্রোপাইটার তাপস কুমার মন্ডল বলেন,
“২০ বস্তার চাহিদা দিলে ৫-৭ বস্তা চাল দিচ্ছে মিলাররা। প্রতি বস্তায় ২০০-৪০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। যার ফলে খুচরা বাজারে চালের দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছি।”
আরও পড়ুন… টানা বৃষ্টিতে ভেঙে পড়লো চাঁদপুর-গোভনীয়া সড়কের বেইলি ব্রিজ, বন্ধ যান চলাচল
পাইকারি ব্যবসায়ী সুকুমার ব্রহ্ম জানান,
“নির্বাচিত সরকার না থাকায় অনেক মজুতদার সরকারি নীতিমালা মানছেন না। বড় করপোরেটরা মৌসুমের শুরুতেই অর্ধেকের বেশি ধান তুলে নিয়েছে।”
চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন,
“চালের দাম কিছুটা বেড়েছে ঠিকই, তবে অতিরিক্ত মজুত যেসব মিলে আছে সেখানে অভিযান চালানো দরকার। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।”
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল পদ্মা টেলিভিশনকে বলেন,
“খাদ্য কর্মকর্তাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তদন্তে যদি অপকর্ম ধরা পড়ে, তাহলে আমরা অবশ্যই অভিযান চালাব।”
বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে হলে দ্রুত মজুতদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে। নয়তো বাজার আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।

