পাটগ্রামে প্রসবকালীন গাফিলতিতে মায়ের মৃত্যু, অভিযোগ স্বজনদের

লালমনিরহাটের পাটগ্রামের জোংড়া মডেল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে প্রসবকালীন চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের দাবি, সময়মতো রেফার না করায় এ মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
নিহত ঝর্ণা রানী (৩০) উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ও নিরঞ্জন রায়ের স্ত্রী। তিনি এক কন্যা ও সদ্যজাত পুত্রসন্তানের জননী।
স্বজনরা জানান, গত ৮ জুন দুপুর ১২টার দিকে ঝর্ণাকে প্রসবজনিত সমস্যা নিয়ে জোংড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। দায়িত্বে থাকা আয়া রত্না রানী জানান, স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসব করানো হবে। পরে বিকেলে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন ঝর্ণা।
আরও পড়ুন… দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে যাত্রীবাহী বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ৫ জন নিহত, আহত অন্তত ১৫ জন
তবে প্রসবের পর থেকেই তার অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। শুরু হয় অবিরাম রক্তক্ষরণ ও বমি। প্রায় ৭ ঘণ্টা পার হলেও তাকে স্থানান্তর করা হয়নি। রাত ১২টার দিকে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে রংপুরে রেফার করা হয়, তবে ততক্ষণে অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক।
রাত ৩টার দিকে রংপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ঝর্ণাকে। সেখানে দুই দিন আইসিইউতে থাকার পর ১০ জুন তিনি মারা যান।
ঝর্ণার স্বামী নিরঞ্জন রায় বলেন, “বারবার বলেছি রেফার করতে, কিন্তু তারা সময়ক্ষেপণ করেছে। রাত ১২টায় বলল উপজেলা হাসপাতালে নিতে। চিকিৎসক জানিয়েছেন, প্রসবের সময় ভেতরে ক্ষতি হয়েছে, রক্তক্ষরণ বন্ধ করা যায়নি। ৭ ব্যাগ রক্ত দিয়েও বাঁচানো গেল না। আমার দুই সন্তান এখন মা হারা। এর বিচার চাই।”
এ বিষয়ে জোংড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আয়া রত্না রানী দাবি করেন, “ঝর্ণার অবস্থা ভালোই ছিল, স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসব হয়। কিছু সমস্যা থাকলেও আগে থেকে জানানো হয়নি।”
আরও পড়ুন… ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ২০ কিলোমিটারজুড়ে ধীরগতি, ভোগান্তিতে কর্মজীবীরা
পরিদর্শিকা চিনু বালা রায় বলেন, “উপজেলা চিকিৎসকের পরামর্শে ইনজেকশন দেওয়া হয়। কোনো গাফিলতি হয়নি।”
ঘটনার তদন্তের আশ্বাস দিয়ে পাটগ্রাম উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খুরশিদুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি শুনেছি। ছুটি শেষে তদন্তে যাব। গাফিলতির প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

