এক মাস পিছিয়ে গেল স্থানীয় নির্বাচন? জানাল ইসি

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন অক্টোবরের পরিবর্তে আগামী নভেম্বর থেকে শুরু করার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে চূড়ান্ত সময়সূচি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ভোট আয়োজন শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সদস্য আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের জন্য নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়কে উপযুক্ত হিসেবে বিবেচনা করছে কমিশন। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী নভেম্বর থেকেই নির্বাচন শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে বিষয়টি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।
এর আগে অক্টোবরের শুরুতেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের কথা জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। এমনকি আগস্টের শেষ দিকে তপশিল ঘোষণার পরিকল্পনাও ছিল। তবে অক্টোবরের শেষ দিকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন থাকায় স্থানীয় নির্বাচন এক মাস পিছিয়ে নভেম্বর থেকে শুরু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ইসি সদস্য আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, নভেম্বর থেকে নির্বাচন শুরু করার কথা বলা হলেও মাসের প্রথম দিনেই ভোট হবে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেই। অক্টোবরের শেষ দিকে আরেকটি নির্বাচন থাকায় স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের সময় কিছুটা সমন্বয় করতে হচ্ছে।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকারের ভোটগ্রহণ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি কোনো কোনো পৌরসভাতেও নির্বাচন হতে পারে। তবে কোন কোন এলাকায় এবং কোন ক্রমে নির্বাচন হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে আগামী সপ্তাহে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
তিনি জানান, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনার জন্য চলতি বাজেটে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়ার পর আগামী সপ্তাহে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে নির্বাচন আয়োজনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা এবং ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণের এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের। কমিশনের সঙ্গে আলোচনার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

