গ্যাস সংকটে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

গ্যাসের তীব্র সংকটে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সবকটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাত থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে সম্পূর্ণভাবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন সিএনজি অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের চালকেরা। কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (১২ আগস্ট) থেকেই জেলার পাঁচটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার রাত থেকে পুরোপুরি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে একে একে সব ফিলিং স্টেশন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।
গ্যাস না পেয়ে অনেক সিএনজি অটোরিকশা চালক বিকল্প হিসেবে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন। এতে অটোরিকশার সংখ্যা কমে যাওয়ায় যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে তাদের।
ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পাঁচটি স্টেশনে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ করা হতো। বিপরীতে চাহিদা রয়েছে এর প্রায় দ্বিগুণ। দীর্ঘদিন ধরেই সরবরাহ সংকট থাকায় স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপও স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম ছিল।
সাধারণত ১৫ পিএসআই চাপের গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার কথা থাকলেও গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে মাত্র ৩ থেকে ৪ পিএসআই চাপে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছিল। এর মধ্যে বুধবার থেকে সরবরাহ আরও কমিয়ে দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার রাতে সম্পূর্ণ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ফিলিং স্টেশনগুলোর কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।
এদিকে সিএনজি সংকটের প্রভাব পড়েছে জেলার সড়ক-মহাসড়কেও। রাস্তায় সিএনজি অটোরিকশার সংখ্যা কমে যাওয়ায় যাত্রীদের অপেক্ষার সময় বেড়েছে। কিছু অটোরিকশা এলপিজিতে চলাচল করলেও জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় চালকেরা বাড়তি ভাড়া দাবি করছেন।
শহরের কুমারশীল মোড় থেকে নন্দনপুর বিসিক শিল্পনগরীতে যাওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর অটোরিকশা পেয়েছেন হানিফ মিয়া নামে এক যাত্রী। তিনি জানান, স্বাভাবিক সময়ে এ পথে ৪০ টাকা ভাড়া হলেও তার কাছে ৮০ টাকা দাবি করা হয়। পরে দরকষাকষির মাধ্যমে ৭০ টাকায় যেতে রাজি হন চালক।
অন্যদিকে কুমারশীল মোড় থেকে সরাইল-বিশ্বরোড মোড় রুটে চলাচলকারী অটোরিকশাচালক রফিক মিয়া বলেন, এ রুটে নিয়মিত ভাড়া ৫০ টাকা। গ্যাস সংকট শুরু হওয়ার পর তিনি ৭০ টাকা ভাড়া নিচ্ছিলেন। এখন এলপিজি ব্যবহার করে গাড়ি চালাতে গিয়ে খরচ বেড়ে যাওয়ায় ৯০ টাকা ভাড়া নিতে হচ্ছে।
সরাইলের সোপান ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক আজিজুল হক বলেন, বুধবার থেকেই তাদের স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে যানবাহনে গ্যাস দিতে না পারায় স্টেশনটি বন্ধ রাখতে হয়েছে। বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ আগামী রোববার অথবা সোমবার সরবরাহ স্বাভাবিক করার কথা জানিয়েছে বলেও তিনি জানান।
ফাহাদ ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম জানান, বুধবার দুপুরের পর থেকে তাদের স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে যানবাহনে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না এবং স্টেশনটি বন্ধ রয়েছে।
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. শফিকুল হক বলেন, এলএনজি সংকটের কারণে গ্রাহকদের প্রয়োজন অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। সংকট কখন নাগাদ দূর হবে, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও এখনো নির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

