রামিসা হত্যা মামলায় নতুন ধোঁয়াশা, কার দিকে ইঙ্গিত আসামির?

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজের স্ত্রীকে নির্দোষ দাবি করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি মামলায় ‘ডলার’ নামে আরেক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার কথাও উল্লেখ করেন।
বুধবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির আগে আসামিদের কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে আনা হয়।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে বিচারক মামলার ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও অভিযোগ আসামিদের সামনে উপস্থাপন করেন। অভিযোগ শোনার পর সোহেল রানা আদালতকে বলেন, তিনি একা দায়ী নন এবং ‘ডলার’ নামের একজন ব্যক্তিকেও খুঁজে বের করার দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কোনো অপরাধে জড়িত নন।
একপর্যায়ে সোহেল আদালতের কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেন, তার একটি সন্তান রয়েছে এবং তাকে ক্ষমা করা হোক। তবে বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি আবারও নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেন। আদালত তার বক্তব্য নথিভুক্ত করেন।
আরো পড়ুন…জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দেশে ফিরলেন ড. খলিলুর রহমান
অন্য আসামি স্বপ্না আক্তারও আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। বিচারক তাকে ঘটনার সময় দরজা না খোলার বিষয় এবং ভিডিও ফুটেজে থাকা তথ্য সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি কোনো অপরাধে জড়িত নন বলে পুনরায় জানান। আদালত তাকে সতর্ক করে বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে একই ধরনের শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন। তবুও স্বপ্না নিজের নির্দোষতার অবস্থান বজায় রাখেন।
শুনানি শেষে আদালত মামলার পরবর্তী ধাপ হিসেবে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য পরদিন দিন ধার্য করেন। পরে আসামিদের আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, বিচারপ্রক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার উদ্দেশ্যে সোহেল এখন ‘ডলার’ নামের ব্যক্তির কথা বলছেন। তার দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এমন কোনো ব্যক্তির উল্লেখ ছিল না বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মূসা কালিমূল্যাহ বলেন, আসামি আদালতের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। মামলার রায়ের মাধ্যমে প্রকৃত বিষয় স্পষ্ট হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এর আগে মামলায় রামিসার বাবা-মা, বোন, স্বজন, প্রতিবেশী, প্রত্যক্ষদর্শী এবং তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৬ জন সাক্ষ্য প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর ওই বাসার বাসিন্দা সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে সোহেল ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেছিলেন।

