সাবেক এমপি ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জোর করে নেওয়া হয়েছিল মোট ৫ কোটি টাকার ১১টি চেক

সাবেক এমপি ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জোর করে নেওয়া হয়েছিল মোট ৫ কোটি টাকার ১১টি চেক
গ্রেপ্তার ৫ জন, পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ চলছে
ছাত্রনেতার বাসা থেকে উদ্ধার সোয়া ২ কোটি টাকার চেক
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) রাজধানীর নাখালপাড়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আব্দুর রাজ্জাক বিন সোলাইমান ওরফে রিয়াদের বাসা থেকে সোয়া দুই কোটি টাকার চারটি চেক উদ্ধার করেছে। অভিযুক্ত রাজ্জাককে এর আগে গুলশানে সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসায় চাঁদা দাবি করতে গিয়ে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
গতকাল বুধবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এ ঘটনায় কলাবাগান থানায় নতুন মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই চেকগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, এই চেকগুলো মূলত রংপুর-৬ আসনের সাবেক আওয়ামী লীগ এমপি আবুল কালাম আজাদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘ট্রেড জোন’ থেকে নেওয়া হয়েছিল। এই প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম জানান, শুধু সোয়া দুই কোটি নয়, মোট পাঁচ কোটি টাকার ১১টি চেক নেওয়া হয়েছিল রাজ্জাকসহ ছয়জনের মাধ্যমে। তবে ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর কোনো টাকাই তোলা যায়নি, কারণ চেকগুলোর বিপরীতে কোনো অর্থ রাখা হয়নি।
ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে সাইফুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি ট্রেড জোন একটি জমি বিক্রির উদ্যোগ নেয়। সেই তথ্য জানতে পেরে ২৬ জুন সন্ধ্যায় রাজ্জাকসহ ছয়জন তাঁদের অফিসে এসে উপস্থিত হয়। তারা অফিসের সবার ফোন জোর করে নিয়ে নেয় এবং দাবি করে, ভবনের নিচে শ’খানেক লোক অপেক্ষা করছে। এরপর শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি অফিসে বসিয়ে রেখে প্রতিষ্ঠানের মালিক আবুল কালাম আজাদের ছবি তোলে এবং জুতার মালা পরানোর হুমকি দেয়। নগদ টাকা না পেয়ে তারা চেক বই বের করে জোর করে ১১টি চেকে পাঁচ কোটি টাকা লিখিয়ে নেয় এবং সই করায়।
গুলশানে সাবেক এমপির বাসায় চাঁদা দাবির সময় গ্রেপ্তার হওয়া রাজ্জাক ছাড়াও আরও চারজন রয়েছেন—ইব্রাহিম হোসেন ওরফে মুন্না, সাকাদাউন সিয়াম, সাদমান সাদাব এবং এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর। তাদের মধ্যে ইব্রাহিম হোসেন ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক, আর রাজ্জাক ছিলেন একই সংগঠনের সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক। গ্রেপ্তারের পর সবাইকে বহিষ্কার করা হয় এবং কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়া অন্য সব কমিটি স্থগিত করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া চেকগুলোর দুটিতে এক কোটি করে, একটি চেকে ১৫ লাখ এবং আরেকটিতে ১০ লাখ টাকা উল্লেখ রয়েছে। তবে চেকগুলোর তারিখ ও গ্রহীতার নাম ফাঁকা রাখা হয়েছিল।
এদিকে ট্রেড জোন কর্তৃপক্ষও চাঁদাবাজির মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, ব্যাংকে টাকা না থাকায় চেক থেকে টাকা তোলা যায়নি, ফলে চাঁদা আদায়কারীরা প্রতিষ্ঠান মালিককে হুমকি দিচ্ছিল।
পুলিশ আরও জানায়, রাজ্জাকের পরিবার হঠাৎ করেই অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল হয়ে বাড়ির ছাদ ঢালাই করছে। রাজ্জাকসহ গ্রেপ্তার হওয়া অন্যরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভয় দেখিয়ে চাঁদা তুলতেন। এ ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা ফেসবুকে লিখেছেন, “ঠিকমতো খোঁজ নিলে বোঝা যাবে, এদের শিকড় অনেক গভীরে।”
আরও পড়ুন: শিশু আছিয়ার পরিবারকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করল জামায়াত

