ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন চাইলেন জামায়াতের আমির

ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন চাইলেন জামায়াতের আমির “পদ্মা নিউজ”
সিলেটে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন”
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের আগে অবশ্যই বুনিয়াদি সংস্কার ও গণহত্যার বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। অন্তত কয়েকজন বড় অপরাধীর বিচার সম্পন্ন হলে মানুষ বুঝতে পারবে ন্যায়বিচারের সূচনা হয়েছে। বাকিটা পরবর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে চালিয়ে যাবে।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যায় সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মহানগর জামায়াত আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে’ শহীদ ও আহতদের স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “মানবতা এখনো বেঁচে আছে। যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের অধিকাংশই শ্রমজীবী মানুষ। আমরা তাদের কাছে ঋণী। শহীদ পরিবারের সদস্যদের বলেছি, সুখের সময়ে আমাদের কথা মনে না রাখলেও চলবে, প্রয়োজনে অবশ্যই পাশে পাবেন জামায়াতকে। শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি। ইতিমধ্যে শহীদদের নির্ভুল তালিকার দুটি ভলিউম প্রকাশিত হয়েছে। আহতদের তথ্যও সংগ্রহ করে ডাটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, শহীদ ও আহতদের রাষ্ট্রীয়ভাবে মর্যাদা ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া উচিত। “তারা জীবনের চাওয়া-পাওয়া ত্যাগ করে জাতিকে মুক্তি দিয়েছেন, অথচ রাষ্ট্রের কোষাগারে তাদের জন্য কোনো বরাদ্দ নেই,” বলেন জামায়াতের আমির। ক্ষমতায় এলে শহীদ ও আহত পরিবারকে সম্মান এবং আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন: দগ্ধদের রক্তের প্রয়োজন নেই : বার্ন ইনস্টিটিউট পরিচালক
আগামী নির্বাচন নিয়ে মানুষের প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “গত তিনটি নির্বাচনে মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। আমরা আশা করি, নতুন বছরে ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”
সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির কঠোর সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ভিক্ষা করা হালাল, তবে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট যারা করে, তারা ভিক্ষুকের চেয়েও নিকৃষ্ট। আমি কোনো বিশেষ দলকে বলছি না, এই চরিত্রের মানুষের কথাই বলছি। যদি কেউ দলে থেকেও এমন করে, সেটা তাদের ব্যক্তিগত দায়।”
তিনি বলেন, “আমরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, এবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। দেশের সব খাত আজ সিন্ডিকেটের কবলে। এই সিন্ডিকেট ভাঙা গেলে পণ্যের দাম অন্তত ৪০ শতাংশ কমে আসবে।”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জুলাই আন্দোলনকে আমরা কারও একক কৃতিত্ব বলি না। কাউকে মাস্টারমাইন্ড বলা মানে অন্যদের অবদান ছোট করা। আমি সবসময় এই কৃতিত্ব শহীদ ও আহতদের দিই।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও সেক্রেটারি শাহজাহান আলী। আরও বক্তব্য দেন সিলেট জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন, হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির কাজী মখলিছুর রহমানসহ শহীদ পরিবারের সদস্যরা।

