বগুড়ায় ঘটককে গাছের সঙ্গে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন, হাসপাতালে ভর্তি

🟩 বিয়ে দেওয়ার পর বনিবনা না হওয়ায় ঘটককে দায়ী করে নির্যাতন
🟩 স্যান্ডেল ও গোবর দিয়ে মারধর, এক ঘণ্টা ধরে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে পরিবার
🟩 আঘাত গুরুতর হওয়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর
🟩 প্রাথমিক তদন্তে মারধরের প্রমাণ মিলেছে, বলছে পুলিশ
বগুড়ার শেরপুরে ঘটকালির জেরে মজিবর শেখ (৬৫) নামের এক বৃদ্ধকে গাছের সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (১৫ জুন) সন্ধ্যায় শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের সূত্রাপুর গোয়ালপাড়া গ্রামে এ অমানবিক ঘটনা ঘটে।
আহত মজিবর শেখ বর্তমানে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ভুক্তভোগী মজিবর শেখ শেরপুরের ওমরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
এ ঘটনায় তার ভাই নজরুল শেখ শেরপুর থানায় চারজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
জানা গেছে, গত ৯ জুন সুমাইয়া খাতুন (২১) নামের এক তরুণীর সঙ্গে মো. মুন্না (২৮) নামের এক যুবকের বিয়ে হয়।
বিয়ের ঘটক ছিলেন মজিবর শেখ। বিয়ের দুই দিনের মাথায় বরের পরিবারের বিরুদ্ধে মেয়ের প্রতি খারাপ আচরণের অভিযোগ ওঠে, যার জেরেই ঘটককে শাস্তি দেওয়া হয়।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে মজিবর শেখ বলেন,
“রোববার সন্ধ্যায় জহুরুল ইসলাম ও তার পরিবার আমাকে উপহারের কথা বলে ডেকে নেয়। সেখানে গিয়ে শুনি, মেয়ে-জামাইয়ের বনিবনা হচ্ছে না। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আমাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে স্যান্ডেলে গোবর মাখিয়ে, লাঠি দিয়ে হাত-পা-মাথায় এক ঘণ্টা ধরে মারধর করে।”
“পরে আমার ভাই নজরুল শেখ এসে আমাকে উদ্ধার করেন।”
শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা সাজিদ হাসান সিদ্দিকী বলেন,
“রোববার রাতে গুরুতর অবস্থায় মজিবরকে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থা খারাপ হওয়ায় ১৭ জুন শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। শরীরজুড়ে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।”
আরও পড়ুন… বগুড়ায় ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের তিন আরোহী নিহত
মজিবরের ছেলে সোনাউল্লাহ শেখ জানান,
“আমার বাবা পেশাদার ঘটক না। টাকার বিনিময়ে ঘটকালিও করেন না। তাকে যেভাবে ফাঁদে ফেলে নির্যাতন করা হয়েছে, তা অমানবিক ও লজ্জাজনক।”
অভিযোগের বিষয়ে কনের বাবা জহুরুল ইসলাম বলেন,
“ঘটক বলেছিল ছেলের পরিবার ভালো। কিন্তু তারা আমার মেয়ের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছে। এজন্য আমরা রাগ করে ঘটককে একটু মারধর করেছি।”
শেরপুর থানার এসআই তোফাজ্জল হোসেন বলেন,
“অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। একজন বৃদ্ধকে এমন অমানবিকভাবে শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

