রৌমারীতে ইউপি চেয়ারম্যান ও পুলিশের ঘুষ লেনদেনের ভিডিও ফাঁস

🟩 ১১ সেকেন্ডের ভিডিওতে চেয়ারম্যানকে পুলিশ সদস্যকে টাকা দিতে দেখা যায়
🟩 ঘুষ নয়, চা খাওয়ার টাকা দাবি করে নিজেকে নির্দোষ বলছেন পুলিশ সদস্য
🟩 চেয়ারম্যান বলছেন—“ওসি চেয়েছিল, আমি ঈদ বোনাস হিসেবে দিয়েছি”
🟩 ভিডিওর ঘটনায় তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস এএসপি মমিনুল ইসলামের
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ইউপি চেয়ারম্যান সরবেশ আলী ও পুলিশের এক সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের ঘুষ লেনদেনের ভিডিও ফাঁস হয়েছে, যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
১১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পদ্মা টেলিভিশনের হাতে এসেছে। তবে ভিডিওটি কবে, কোথায় ধারণ করা হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ইউপি চেয়ারম্যান সরবেশ আলীর দিকে তাকিয়ে আছেন। এ সময় চেয়ারম্যান আশপাশ দেখে নিজের পকেট থেকে টাকার বান্ডিল বের করে মোস্তাফিজুরের পকেটে ঢুকিয়ে দেন। কিছুক্ষণ পর মোস্তাফিজ সেই টাকা হাতে তুলে নেন।
ভিডিও নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,
“চেয়ারম্যান আমাকে চা খাওয়ার জন্য পকেটে টাকা ঢুকিয়ে দিয়েছেন, এটা ঘুষ হয় কীভাবে? মানুষ তো ফেরেশতা না, চায়ের টাকা নেওয়া যাবে না?”
তিনি আরও বলেন, “যদি কর্তৃপক্ষ তদন্ত চায়, আমি প্রস্তুত। আমি স্যারের সামনে বলব—চা খাওয়ার নামেই টাকা দেওয়া হয়েছিল। সব কিছুই যদি ঘুষ হয়, তাহলে তো সমাজ চলবে না।”
অন্যদিকে, ইউপি চেয়ারম্যান সরবেশ আলী দাবি করেন, ওসি তার গ্রামের মসজিদের জন্য টাকা চেয়েছিলেন।
তিনি বলেন, “একদিন উপজেলা চত্বরে এক কনস্টেবলকে ১০ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। ওই পুলিশ সদস্যকে ঈদ বোনাস হিসেবে ৫০০ টাকা দিয়েছি। তবে কাউকে ঘুষ দেইনি।”
তবে কোন ওসি টাকা চেয়েছিলেন জানতে চাইলে, তিনি নাম বলতে অস্বীকৃতি জানান।
আরও পড়ুন… সততা দিয়েই মানুষের মন জয় করবে বিএনপি: আব্দুস সালাম
এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (রৌমারী সার্কেল) মমিনুল ইসলাম পদ্মা টেলিভিশনকে বলেন,
“বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তবে কোনো পুলিশ সদস্য অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”
তিনি জানান, যে পুলিশ সদস্যের বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে, তাকে অন্য একটি ঘটনায় আগেই প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
ভিডিওর বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় জনমনে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে—জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের এমন আচরণে নৈতিকতা ও স্বচ্ছতার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।

