হজে সরকারি অর্থে কর্মচারী প্রেরণ নিয়ে বিতর্ক: ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিবাদ

🟩 “উপদেষ্টার স্ত্রী ও দুই বোন সরকারি অর্থে হজে” শিরোনাম উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: ধর্ম মন্ত্রণালয়
🟩 হজ ব্যবস্থাপনায় পিয়ন থেকে গানম্যান—সব পর্যায়ের কর্মী নিয়োগের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা
🟩 উপদেষ্টার পরিবারের সদস্যরা ব্যক্তিগত খরচে গেছেন, প্রমাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে সংরক্ষিত
🟩 ২০২৫ সালে মাত্র ২৯৩ জন দিয়ে ৮৭ হাজার হাজীকে সেবা দেওয়া হয়েছে—ইন্দোনেশিয়ার তুলনায় অনেক কম
একটি জাতীয় দৈনিকের সংবাদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, যেখানে বলা হয়েছিল—সরকারি অর্থে হজে পাঠানো হয়েছে মালি, গানম্যান, ড্রাইভার, এমনকি উপদেষ্টার স্ত্রী ও দুই বোনকেও।
শনিবার (১৪ জুন) প্রকাশিত বণিক বার্তা-র প্রতিবেদনে এই দাবি তোলা হলে পরে তা বাংলাদেশ প্রতিদিন ও দৈনিক কালেরকণ্ঠ-সহ কয়েকটি পত্রিকাও হুবহু প্রকাশ করে। তবে ধর্ম মন্ত্রণালয় জানায়,
“এই তথ্য ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা: কেন সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী হজে পাঠানো হয়
হজ ব্যবস্থাপনাকে “চ্যালেঞ্জিং” উল্লেখ করে মন্ত্রণালয় জানায়, ‘হজ ও উমরাহ ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২২’ অনুযায়ী হজ কার্যক্রমের জন্য বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা প্রেরণ করা হয়, যার মধ্যে রয়েছেন—
অফিস সহায়ক, কম্পিউটার অপারেটর, ড্রাইভার, গানম্যান, মালীসহ অনেকে।
এই কর্মীদের দায়িত্ব:
-
হাজীদের রুমে সমস্যা সমাধান
-
হারানো হাজিদের খোঁজ
-
অসুস্থ হাজিদের চিকিৎসা সহায়তা
-
লাগেজ হারিয়ে গেলে উদ্ধার
-
মৃত হাজিদের দাফন
-
রুটিন অনুযায়ী আরাফা, মুজদালিফা, মিনা, মদিনা সফর ব্যবস্থাপনা
মন্ত্রণালয় জানায়,
ইন্দোনেশিয়া ২.২১ লাখ হাজীর জন্য পাঠিয়েছে ৪,০০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী, আর বাংলাদেশ মাত্র ২৯৩ জন দিয়ে সেবা দিয়েছে ৮৭,০০০ হাজীকে।
আরও পড়ুন… আবারও বায়ুদূষণে শীর্ষে ঢাকা, ‘অস্বাস্থ্যকর’ বাতাসে হুমকিতে জনস্বাস্থ্য
উপদেষ্টার পরিবার নিয়ে অভিযোগ অস্বীকার
প্রতিবেদনে বলা হয়, উপদেষ্টার স্ত্রী ও দুই বোন সরকারি অর্থে হজে গেছেন।
তবে মন্ত্রণালয়ের দাবি,
“তারা নিজ খরচে হজে গেছেন। টাকা জমাদানের প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে।”
সাথে মাহরাম না থাকায় উপদেষ্টা নিজেই তাদের মাহরাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রতিবেদকের কাছে এই সংক্রান্ত সরকারি আদেশও সরবরাহ করা হয়েছে বলেও জানায় মন্ত্রণালয়।
টিআইবি-এর মন্তব্যকে ‘মনগড়া’ বলছে মন্ত্রণালয়
টিআইবি-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন—”সৌদি সরকারের প্যাকেজেই সব সেবা অন্তর্ভুক্ত থাকে।”
তবে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া:
“এই মন্তব্য মনগড়া, এবং তার পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি।”
‘সরকারি সেবা মানহীন’—এমন দাবি প্রত্যাখ্যান
প্রতিবেদকের বক্তব্যে বলা হয়—”সরকারিভাবে হজে যাওয়া ব্যক্তিরা ভালো সেবা পান না।”
মন্ত্রণালয় জানায়,
“এ ধরনের মন্তব্য তথ্যহীন ও সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থি।”
সরকারি হজযাত্রীরা খাবার নিজ খরচে নেন, এবং রান্নাবান্না না করার জন্য সৌদি সরকারের নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে।
আরও পড়ুন… ঈদুল আজহার ১০ দিনের ছুটি শেষে খুলেছে অফিস-আদালত, কর্মস্থলে ফিরলো জনজীবন
উপসংহার
মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী,
“এই প্রতিবেদন সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য একটি চক্রান্ত। এবছরের হজ ব্যবস্থাপনা অতীতের তুলনায় অনেক বেশি সফল হয়েছে।”
হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন (হাব) এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম এই সফল ব্যবস্থাপনাকে প্রশংসা করেছে, যা কেউ কেউ ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছেন বলে মন্ত্রণালয়ের দাবি।
আরও পড়ুন… তারেক রহমান-ড. ইউনূস বৈঠকে উপদেষ্টা পরিষদের সন্তুষ্টি, ফিটনেসবিহীন গাড়িতে কঠোর ব্যবস্থা আসছে
📢 পদ্মা টেলিভিশনের পক্ষ থেকে, সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমসমূহকে যথাযথ তথ্য যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ ও পেশাদার সংবাদ পরিবেশনের অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

