তারেক রহমান-ড. ইউনূস বৈঠক: রাজনীতিতে উত্তাপের মাঝে আশার আলো

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কৌশলগত পরামর্শেই বদলে যাচ্ছে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী শুক্রবার (১৩ জুন) লন্ডনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
গত কয়েক মাস ধরে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা কিছুটা প্রশমিত হয়েছে নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় ঘোষণার মাধ্যমে। তবে বিএনপি সেই সময় ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করায় রাজনৈতিক বিতর্ক এখনো পুরোপুরি থামেনি। এই প্রেক্ষাপটে লন্ডনে ইউনূস-তারেক বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়ছে কৌতূহল।
চার দিনের সফরে মঙ্গলবার লন্ডনে পৌঁছেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস। সরকারি সূত্র ও বিএনপির পক্ষ থেকে জানা গেছে, তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে শুক্রবার সকালে। বৈঠকটি সফল হলে নির্বাচন নিয়ে চলমান মতপার্থক্য, কাঙ্ক্ষিত সংস্কার এবং আলোচিত “জুলাই সনদ” নিয়ে দুই পক্ষের দূরত্ব কমতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, ইউনূসের সফর সূচি চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকেই এমন একটি বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে দলের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। সূত্র বলছে, শেষ মুহূর্তে বেগম খালেদা জিয়ার সক্রিয় ভূমিকার ফলেই এই বৈঠক চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
আরো পড়ুন…আলমাদার নায়কোচিত গোলে ১০ জনের আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন
এর আগে ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসেবে শপথ না পড়ানোকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে সৃষ্টি হয় উত্তেজনা। পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয় বিএনপি-সরকারের সম্পর্কের অবনতি ও এনসিপির সঙ্গে বিরোধের জেরে। পরে নয়াপল্টনের এক জনসভায় তারেক রহমান ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচনের জোর দাবি জানান। এরই মাঝে এপ্রিল মাসে প্রধান উপদেষ্টা সম্ভাব্য ভোটের সময় ঘোষণা দিলেও বিএনপি তাতে সন্তুষ্ট হয়নি। ফলে লন্ডনের এই বৈঠক অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। তবে শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষের আগ্রহেই সময়সূচি ঠিক হয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে এই বিষয়ে আলোচনা হয়। কমিটির সদস্যরা বৈঠককে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা দেশের একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। অন্যদিকে তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে নির্বাসনে রয়েছেন, কিন্তু দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান। এ বৈঠক রাজনৈতিক সৌজন্যের অংশ। না হলে সমালোচনার সুযোগ থেকে যেত।”
এদিকে এ বৈঠক ঘিরে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের পদ্মা টেলিভিশনকে বলেন, “এ ধরনের বৈঠক দেশের জন্য মঙ্গলজনক। জাতীয় নির্বাচন ও কাঙ্ক্ষিত সংস্কার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়া উচিত।”
উল্লেখ্য, জামায়াত, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি দল প্রধান উপদেষ্টার ঘোষিত সময়সূচিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। তাদের মতে, এই ঘোষণার মাধ্যমে জাতির মধ্যে আশার এক নতুন ভিত্তি তৈরি হয়েছে।

