ঈদ সামনে রেখে মসলার বাজারে স্বস্তি, সিন্ডিকেটের তৎপরতা নেই

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে মসলার বাজারে দেখা দিয়েছে স্বস্তির আমেজ। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর বেশিরভাগ মসলার দাম কমে এসেছে। ব্যবসায়ী ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সিন্ডিকেটের অনুপস্থিতি এবং বাজারে তদারকি বাড়ার কারণে এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে পদ্মা টেলিভিশন এর প্রতিবেদক জানতে পারেন, দেশি পেঁয়াজ, রসুন, আদা, শুকনা মরিচ, জিরা, দারুচিনি, তেজপাতা—এসব প্রয়োজনীয় মসলার দাম গত বছরের তুলনায় অনেকটাই কমেছে।
গত বছর ঈদুল আজহার সময় দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল কেজি প্রতি ৭০ থেকে ৯০ টাকায়, যেখানে এবার তা ৫০ থেকে ৬০ টাকায় নেমে এসেছে। দেশি রসুনের দাম ছিল প্রায় ২০০ টাকা, যা এখন ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। আমদানি করা রসুনের দামও ২৫০ টাকা থেকে নেমে এসেছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়।
এছাড়া আদার ক্ষেত্রেও দামে ব্যাপক হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে। আমদানি করা আদার কেজি এখন ১১০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে, যেখানে গত বছর এটি ছিল ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। শুকনা মরিচ, দারুচিনি, তেজপাতার দামেও একই ধরনের পতন দেখা যাচ্ছে।
আরো পড়ুন…রাজনীতিতে এখনই নেই ডা. জুবাইদা রহমান, মানবিক কাজে মনোনিবেশ
তবে সবকিছুই যে কমেছে তা নয়। কিছু মসলার দাম বাড়তির দিকে। যেমন—ধনিয়া ও এলাচের দাম গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। ধনিয়া এখন বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২৮০ টাকায়, যেখানে আগে ছিল ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা। আর উচ্চমূল্যের মসলা এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৪০০ থেকে ৫ হাজার ২০০ টাকায়, যা আগের বছর ছিল ৩ হাজার ৬০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে।
শ্যামপুর বাজারে কেনাকাটা করতে আসা রিফাত আলম পদ্মা টেলিভিশনকে বলেন, “গতবার যেসব মসলা কিনেছিলাম, এবারে তার অনেকগুলোর দাম কম পেয়েছি। অবশ্য কিছু মসলার দাম বেড়েছে, তবে সার্বিকভাবে এবার বাজারে স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে।”
ভোক্তা অধিকার সংস্থা কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন পদ্মা টেলিভিশনকে বলেন, “বর্তমানে রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকলেও বাজারে কঠোর নজরদারি রয়েছে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সক্রিয় ভূমিকার কারণে আগের মতো সিন্ডিকেট সক্রিয় হতে পারছে না। ফলে বাজারে স্থিতিশীলতা এসেছে এবং দাম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, “বাজারে এখন যেসব নতুন খেলোয়াড় আছে, তারাও দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে। তারা বুঝে উঠতে পারছে না, কোনো অনিয়ম করলে পেছনে সাপোর্ট পাবে কি না। ফলে বাজারে সিন্ডিকেটের কারসাজি অনেকটাই স্তিমিত হয়ে এসেছে।”
এবারের ঈদ বাজারে মূল্য পরিস্থিতি দেখে ভোক্তারা যেমন কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন, তেমনি বাজার বিশ্লেষকরাও এটিকে ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন।

