আপেল মাহমুদ আবারও প্রমাণ করলেন, তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অমর গান ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’—এর গীতিকার ও কণ্ঠশিল্পী আপেল মাহমুদকে আবারও নিজেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণ করতে হলো।
সোমবার (২ জুন) কুমিল্লা সার্কিট হাউসে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) আয়োজিত এক শুনানিতে অংশ নেন এই শিল্পী। শুনানি শেষে জামুকার মহাপরিচালক শাহিনা খাতুন জানান, আপেল মাহমুদ উপস্থাপিত প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আবারও নিশ্চিত করা হয়েছে যে তিনি একজন সম্মুখ যোদ্ধা ছিলেন এবং প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা।
শুনানি শেষে এক প্রতিক্রিয়ায় আপেল মাহমুদ বলেন, “জীবিত অবস্থায় আমাকে প্রমাণ করতে হলো আমি কে! আমি মুক্তিযোদ্ধা নই—এই অভিযোগের বিরুদ্ধে শুনানিতে হাজির হয়ে নিজেকে প্রমাণ করতে হলো, এটি খুবই কষ্টদায়ক।” তিনি আরও জানান, জামুকার সদস্যরাও দুঃখ প্রকাশ করেছেন যে, একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাকে এই প্রক্রিয়ার মধ্যে যেতে হয়েছে।
আরও পড়ুন… সাতক্ষীরায় তারুণ্য নির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণ বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
এর আগে ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট স্বাধীন বাংলা বেতার কর্মী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, আপেল মাহমুদ মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য নন। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে জামুকা ১২ মে তার কাছে প্রয়োজনীয় দলিল ও সাক্ষ্য জমা দেওয়ার নোটিশ দেয়।
শুনানিতে আপেল মাহমুদ জানান, তিনি ৩ নম্বর সেক্টরের অধীনে ক্যাপ্টেন মতিউর রহমানের নেতৃত্বে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। তিনি বলেন, “নরসিংদীর পাঁচদোনা, আশুগঞ্জ, ভৈরব, হবিগঞ্জ, চুনারুঘাটসহ বেশ কয়েকটি অঞ্চলে যুদ্ধ করেছি। তেলিয়াপাড়া ছিল আমার শেষ যুদ্ধক্ষেত্র। আশুগঞ্জে যুদ্ধের সময় আমি আহত হই, আমাকে আগরতলা নেওয়া হয়।” পরে তিনি কলকাতায় গিয়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শুরুর দিকের কার্যক্রমেও যুক্ত হন।
তিনি জানান, ১৯৭১ সালের ১ জুন থেকে শুরু করে ২০০৬ সালে অবসরে যাওয়া পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ বেতারে দায়িত্ব পালন করেছেন।
আরও পড়ুন… ঢাকায় হত্যাচেষ্টা মামলায় অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া গ্রেপ্তার
জামুকার মহাপরিচালক বলেন, “শুধু প্রেরণামূলক গান গাওয়ার কারণে কেউ মুক্তিযোদ্ধা খেতাব পান না। কিন্তু আপেল মাহমুদের দলিলপত্রে দেখা গেছে, তিনি সম্মুখ সমরে অংশ নিয়েছেন। ফলে তার মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি আরও একবার নির্ভরযোগ্যভাবে প্রমাণিত হয়েছে।”
উল্লেখ্য, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রতীকী গান হিসেবে বিবেচিত ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’ গানে কণ্ঠ দেওয়ার মাধ্যমে আপেল মাহমুদ অমর হয়ে আছেন। তার আরেকটি জনপ্রিয় গান ‘তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর’। সংগীতে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ২০০৫ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন।

