১২ বছর বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরি—শেষ পর্যন্ত ধরা পড়লেন ভুয়া ‘আবদুল ওয়ারেশ’

বাংলাদেশ ব্যাংকে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন মো. আবদুল ওয়ারেশ আনসারী নামধারী এক ব্যক্তি। অথচ চাঞ্চল্যকর তথ্য হচ্ছে—তিনি প্রকৃত ওয়ারেশ নন। নাম ও পরীক্ষার ফলাফল জালিয়াতির মাধ্যমে এক ভুয়া ব্যক্তি এতদিন ধরে চাকরি করে যাচ্ছিলেন।
সূত্র বলছে, ২০১৩ সালে ৩১তম বিসিএস ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক পদের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন প্রকৃত মো. আবদুল ওয়ারেশ আনসারী, যিনি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি)। বিসিএসে সুযোগ পেয়ে তিনি সেই চাকরিকেই বেছে নেন। তবে একই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে, তার নাম ও কাগজপত্র ব্যবহার করে চাকরিতে ঢুকে পড়েন প্রতারক আনসারী।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি অভ্যন্তরীণ তদন্তে বিষয়টি ধরা পড়ে। তদন্ত অনুযায়ী, প্রতারক ব্যক্তিকে চাকরি পাইয়ে দিতে সহায়তা করেন তার চাচা ও তৎকালীন নিয়োগ শাখার উপপরিচালক মো. শাহজাহান মিয়া, যিনি এখন অতিরিক্ত পরিচালক হিসেবে প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত।
আরো পড়ুন…বড় বাজেট বিলের সমালোচনায় ইলন মাস্ক, বললেন ‘ঘাটতি কমায় না, বরং বাড়ায়’
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার প্রতারক ওয়ারেশকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তিনি রাজশাহী অফিসে যুগ্ম পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এদিকে শাহজাহান মিয়াকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্তে সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান পদ্মা টেলিভিশনকে বলেন, “ভুয়া পরিচয়ে চাকরির বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পরপরই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আর যেহেতু শাহজাহান মিয়া সেই সময় নিয়োগ শাখায় ছিলেন, তাকে নিয়েও তদন্ত চলছে।”
এদিকে প্রকৃত আবদুল ওয়ারেশ আনসারী (এডিসি) জানান, ২৮ মে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি বলেন, “আমি বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দিই। পরে ব্যাংক থেকে নিয়োগপত্র পেলেও তা গ্রহণ করিনি। কখনো ভাবিনি কেউ আমার নাম ব্যবহার করে এত বড় প্রতারণা করতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রতারক শুধু আমার নিয়োগপত্র নয়, এমনকি আমি যে খাতায় পরীক্ষা দিয়েছি, সেটিও ব্যবহার করেছে। এটা ভাবতেই অবাক লাগছে যে বিষয়টি ধরতে ১২ বছর লেগে গেল!”
আরো পড়ুন…হাইকোর্ট নিয়ে মন্তব্য: এনসিপি নেতা সারজিস আলমের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, এই প্রতারণার মূল পরিকল্পনাকারী শাহজাহান মিয়া। তিনি আত্মীয় হওয়ার সুবাদে সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে প্রতারক আনসারীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শাহজাহান মিয়াও এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

