“কালো আইন মানি না”—সচিবালয়ে দ্বিতীয় দিনের বিক্ষোভ, সরকারি চাকরি সংশোধনী অধ্যাদেশ প্রত্যাহারের দাবি

সচিবালয়ের ভেতরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আজ রোববার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের ব্যানারে শত শত কর্মকর্তা-কর্মচারী বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন। তাদের মূল দাবি, ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া বাতিল করতে হবে।
বিক্ষোভকারীরা অধ্যাদেশটিকে ‘কালো আইন’ এবং ‘নিবর্তনমূলক’ আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠেন। সচিবালয়ের বিভিন্ন ব্লক ঘুরে মিছিলটি চলতে থাকে। কর্মচারীদের অনেকেই নিজেদের দপ্তর ছেড়ে মিছিলে যোগ দেন, যার ফলে সচিবালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়ে।
আরো পড়ুন…জাতীয় নাগরিক পার্টির নির্বাচনের রোডম্যাপ চাওয়ার আহ্বান
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের এক বৈঠকে ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’ সংশোধনের প্রস্তাব গৃহীত হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তৈরি হয় ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া।
কর্মচারীদের অভিযোগ, খসড়া অধ্যাদেশে যুক্ত হয়েছে সত্তরের দশকের কিছু কড়াকড়ি ধারা, যার ফলে যেকোনো সময় সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে। এমনকি চাকরি হারানোর ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এই অধ্যাদেশকে সংবিধানের মূল আত্মার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও অভিহিত করেছেন কর্মচারীরা। তাদের মতে, এটি নাগরিক অধিকার খর্ব করে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার পরিপন্থী। সংগঠনের নেতারা দ্রুত অধ্যাদেশটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন এবং প্রয়োজনে আরও বৃহত্তর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।
আরো পড়ুন…মাগুরা শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়
বিক্ষোভের ফলে সচিবালয়ে কর্মপরিবেশে চাপ দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে প্রশাসনিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।

