নির্বাচনের প্রস্তুতির নির্দেশ, কর্ণফুলী টানেলকে ‘শ্বেতহস্তী প্রকল্প’ বললেন উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন

🟩 সরকারি কর্মকর্তাদের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বললেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা
🟩 অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে জোর, রাজনৈতিক বাধা থাকলেও থামা যাবে না
🟩 “টানেল শোপিস নয়”—চট্টগ্রামের প্রকল্প নিয়ে কড়া মন্তব্য
🟩 লোকসান, জনশূন্যতা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ে উদ্বিগ্ন উপদেষ্টা
ভালো নির্বাচনের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।
তিনি বলেন, “আমাদের আসল কাজ একটা ভালো নির্বাচন দেওয়া। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রাখা। এখন যেগুলো করছেন, সেগুলো হচ্ছে বাই প্রোডাক্ট।”
শনিবার (২৮ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, যেসব সংস্কার হচ্ছে, তা সময়-সুযোগ থাকায় করা সম্ভব হচ্ছে, তবে মূল দায়িত্ব হলো নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া।
আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এখন জরুরি।
তার ভাষায়, “অনেক প্রভাবশালী, ক্যাডার আছেন—তারা স্বাভাবিকভাবে অস্ত্র জমা দেবেন না। তবুও এটা করতে হবে।”
নির্বাচনকালীন বৈধ অস্ত্র জমা রাখার দিকেও গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “আমরা কিছুদিন মাত্র আছি। এরপর চলে যাব। তবে কিছু ট্রেন্ড শুরু হয়েছে। সুশাসন একদিনে হয় না। আমরা একদম আগের জায়গায় ফিরে যাব না।”
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “টানেল দেখার জিনিস না। প্রতিদিন লোকসান দিতে হচ্ছে।”
এই প্রকল্পকে তিনি ‘শ্বেতহস্তী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
আরও পড়ুন… মসজিদের পাশে প্লাস্টিক ব্যাগে নবজাতক, নাড়াচড়া দেখে মিলল জীবনের চিহ্ন
সভায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাহেদ হোসেন জানান, টানেলে যানবাহনের চলাচল কম, তাই বিকল্প সড়ক প্রশস্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
জবাবে উপদেষ্টা বলেন, “টানেল করার পর কেন চিন্তা করছেন? আগে তো পরিকল্পনা করা দরকার ছিল।”
তিনি আরও বলেন, আনোয়ারা প্রান্তে পাঁচ-সাত তারকা রিসোর্ট করা হয়েছে, কিন্তু সেখানে জনশূন্যতা, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়—সব মিলিয়ে তা টেকসই নয়।
এই রিসোর্টগুলো বেসরকারি খাতে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান, তবে কেউ নিতে চাচ্ছে না বলেও উল্লেখ করেন।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) শারমিন জাহান।
উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

