স্বাদে টক নয়, সুমিষ্ট আনারসের আশ্বাস টিস্যু কালচারে

🟩 কৃত্রিম পাকানো আনারসে স্বাদ-গন্ধ হারিয়ে যাচ্ছে
🟩 রাবির গবেষণায় টিস্যু কালচারে উৎপাদিত হচ্ছে সুস্বাদু আনারস চারা
🟩 ফল হবে বড়, মিষ্টি এবং রোগমুক্ত; খরচও কমবে
🟩 একই পদ্ধতিতে স্ট্রবেরি ও আলুর সফল চারা উৎপাদন
বাজারে পাওয়া অধিকাংশ আনারসেই থাকে টক স্বাদ, যা কৃত্রিম পাকানোর কারণে স্বাভাবিক মিষ্টতা ও ঘ্রাণ হারায়। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান খুঁজছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এগ্রোনমি অ্যান্ড এগ্রিকালচার এক্সটেনশন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. গিয়াসউদ্দিন আহমেদ। তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে উৎপাদিত হচ্ছে উচ্চমানের আনারস চারা।
গবেষণায় সহায়তা করছেন একই বিভাগের এমএস শিক্ষার্থী শারমিন সুলতানা ও পিএইচডি ফেলো মাকসুদা পারভিন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোটেকনোলজি ল্যাবে আনারসের সোমাটিক এমব্রায়ো থেকে শুরু করে পরিপক্ব চারা তৈরির পর তা বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রিত প্লটে স্থানান্তর করা হচ্ছে। ড্রিপ সেচ, পিএইচ নিয়ন্ত্রণ, ও অর্গানিক উপাদানে মাটির মিশ্রণ ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে পরিবেশবান্ধব ও রোগমুক্ত গাছ।
গবেষণায় দেখা গেছে—
-
প্রতিটি গাছের ক্রাউন অংশ থেকে কেলাস তৈরি করে হাজারো চারা উৎপাদন সম্ভব।
-
এই চারা ৩-৪ মাসে পরিপক্ব হয়ে মাঠে রোপণযোগ্য হয়।
-
টিস্যু কালচারে উৎপাদিত ফল হয় আকারে বড়, স্বাদে মিষ্টি এবং রোগ প্রতিরোধী।
-
এক গাছ থেকে যেখানে ৩–৪টি চারা পাওয়া যায়, সেখানে এই পদ্ধতিতে শত শত চারা সম্ভব।
আরও পড়ুন… বিসিবির পরিকল্পনায় রাজশাহী ক্রিকেটের নতুন যুগের সূচনা
অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন আহমেদ বলেন,
“আনারস বড় পরিসরে চাষ করতে হলে একসঙ্গে প্রচুর চারা দরকার, যা সাধারণভাবে তৈরি করা কঠিন। টিস্যু কালচারের মাধ্যমে অল্প সময়ে হাজার হাজার চারা উৎপাদন করা যাচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, এই একই পদ্ধতিতে আলু ও স্ট্রবেরিরও সফল চারা উৎপাদন চলছে। এতে কৃষকরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি ভোক্তারাও পাবেন মিষ্টি ও স্বাস্থ্যকর ফল।
এই উদ্ভাবনী গবেষণা একদিকে যেমন স্বাদহীন টক আনারসের বাজারে পরিবর্তন আনবে, তেমনি দেশীয় ফল উৎপাদনে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের দ্বারও খুলে দিচ্ছে।

