
🟩 আধিপত্যের দ্বন্দ্বে প্রথমে ছুরিকাঘাতে বৃদ্ধ খুন, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পাল্টা হত্যা
🟩 বিএনপির রনি-জাফর ও বাবু-মেহেদী গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
🟩 এলাকায় চরম উত্তেজনা, থমথমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ
🟩 “যে-ই দোষী হোক, কেউ ছাড় পাবে না”—পুলিশ সুপারের হুঁশিয়ারি
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় অটোস্ট্যান্ড দখল ও রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে প্রাণ গেল দুজনের। শনিবার (২১ জুন) রাত ৯টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পৃথক ঘটনায় ছুরিকাঘাত ও গণপিটুনিতে নিহত হন দুই ব্যক্তি। এ ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত তিনজনকে আটক করেছে।
প্রথম হত্যাকাণ্ড ঘটে রাত ৯টার দিকে বন্দর শাহী মসজিদ এলাকায়, নিহত আব্দুল কুদ্দুস (৬০) ছিলেন রনি-জাফর গ্রুপের সমর্থক। প্রতিপক্ষ বাবু-মেহেদী গ্রুপের লোকজন তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। পরবর্তীতে রাত ১টার দিকে সিরাজউদ্দৌলা ক্লাব মাঠের সামনে প্রতিশোধ নিতে রনি-জাফর গ্রুপের লোকজন বাবু-মেহেদী গ্রুপের মেহেদী হাসানকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করে।
আব্দুল কুদ্দুস: হাফেজীবাগ এলাকার বাসিন্দা, রনি-জাফর গ্রুপের সমর্থক
মেহেদী হাসান: সালেহ নগরের বাসিন্দা, বন্দর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, বাবু-মেহেদী গ্রুপের নেতা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আবুল কাওসার আশার অনুসারী রনি-জাফর গ্রুপ এবং ২১ নম্বর ওয়ার্ডের হান্নান সরকারের অনুসারী বাবু-মেহেদী গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বন্দর রেললাইন অটোস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলছিল। শুক্রবার (২০ জুন) এর জেরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে আটজন আহত হন।
আরও পড়ুন... জেলেদের ভাগ্যে নেই স্বস্তি: নিষেধাজ্ঞা শেষে এবার বাধা আবহাওয়া, উপকূলে বাড়ছে ঋণের বোঝা
আব্দুল কুদ্দুসের জামাই মিনার হোসেন বলেন, “কুদ্দুস মিয়ার ছেলে পারভেজ প্রতিবাদী হওয়ায় তাকে না পেয়ে বাবাকে হত্যা করা হয়েছে।”
মেহেদী হাসানের মা নাজমা বেগম বলেন, “আমার ছেলে নিরপরাধ, কেন তাকে মারা হলো, আমি বিচার চাই।”
ভাই খালিদ হাসান অভিযোগ করেন, “রনি-জাফর গ্রুপের ৫০-৬০ জন লোক মেহেদীকে হত্যা করেছে।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন,
“প্রথমে রনি গ্রুপের সমর্থককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়, পরে পাল্টা হামলায় মেহেদী নিহত হন। ইতিমধ্যে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।”
জেলা পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন,
“ঘটনা স্থানীয় আধিপত্য নিয়ে। তদন্ত সাপেক্ষে যারাই দোষী প্রমাণিত হবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
আরও পড়ুন... হারিয়ে যাচ্ছে শৈল্পিক বাবুই পাখির বাসা, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো দেখার সুযোগ পাবে না
অটোস্ট্যান্ড কেন্দ্রিক রাজনৈতিক দখল ও ক্ষমতা প্রদর্শনের রক্তাক্ত চিত্র আবারও সামনে এনেছে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা। দুই গ্রুপের হিংস্র দ্বন্দ্বে প্রাণ গেল দুইজনের, বাড়ছে উত্তেজনা ও আতঙ্ক। প্রশাসনের উচিত হবে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা, যেন আর কোনো পরিবারকে এমন রক্তক্ষয়ী রাজনীতির বলি না হতে হয়।
উপদেষ্টা: এ কে আজাদ চৌধুরী
সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুল হাসান শান্ত
সহ সম্পাদক: সাখাওয়াত হোসেন
© পদ্মা নিউজ ২০২৫ - এর সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত